চট্টগ্রামের স্যান্ডর ডায়ালাইসিসে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

85
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  বুধবার, জুন ১৫, ২০২২ |  ৭:৩২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের স্যান্ডর ডায়ালাইসিসে ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ
       
Advertisement

নগরীর ‘স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ প্রাইভেট লিমিটেডে ভুল চিকিৎসায় সাফিয়া খানম (৬০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ভুক্তোভোগী পরিবারের দাবি টেকনিশিয়ান কর্তৃক ডায়ালাইসিস করানো এবং ডায়ালাইসিস শেষে ডা.রেহনুমা রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

আজ ১৫ জুন, বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস. রহমান হলে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবনের নীচ তলায় প্রধান প্রবেশ পথের এই ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসায় সাফিয়া খানমের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

সংবাদ সম্মেলনে গত ৫ জুন রাতে ডায়ালাইসিস গ্রহণের জন্য তার স্ত্রীকে সাফিয়া খানমকে নিয়ে ডায়ালাইসিস কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর স্যান্ডর কর্তৃপক্ষের ডাক্তার রেহনুমা, নার্স-টেকনিশিয়ান কর্তৃক রোগী এবং রোগীর সাথে থাকা আত্মীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং রোগিরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার বিশদ বর্ণনা দেন নিহতের স্বামী এম. এ মাসুদ ও ছেলে তানভীর আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে নিহতের স্বামী এম, এ, মাসুদ বলেন, গত ৫ জুন ২০২২ ইং তারিখে রাত আনুমানিক নয়টার দিকে আমার ছেলে তার মাকে নিয়ে সেখানে যান। রাত ১০টা বিশ মিনিটে তাকে ডায়ালাইসিসের বেডে শোয়ানো হয়। এই তারিখের আগে যতবার ডায়ালাইসিস করানো হয়েছিল ততবার মহিলা নার্স দিয়ে ডায়ালাইসিস করানো হতো। কিন্তু সেদিন জয় নামের এক পুরুষ টেকনিশিয়ান দিয়ে ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। আমার স্ত্রী ও ছেলে সেদিন মহিলা নার্সের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস করানোর জন্য বারবার অনুরোধ করেন। এর পর আমার ছেলে ও স্ত্রীর সাথে দায়িত্বরত নার্স, টেকনিশিয়ান খারাপ ভাষা ব্যবহার করে ডায়ালাইসিস শুরু করতে অস্বীকার জানায়। পরে আমার স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুরুষ টেকনিশিয়ান জয়কে দিয়ে ডায়ালাইসিস শুরু করা হয়। এর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে আমার স্ত্রীর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এমতাবস্থায় সেখানে কর্মরত নার্স ও চিকিৎসক রেহনুমাকে শ্বাসকষ্টের কথা জানানো হলে তিনি আমার ছেলেকে ধমক দিয়ে রক্ত জোগাড় করে আনতে বলেন। পরে রক্ত জোগাড় করে ডা. রেহেনুমাকে জানানো হলে তিনি রেগে বলেন, রোগীকে এখানে ডায়ালাইসস করানো সম্ভব নয়, ওনাকে অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যান। ওনার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭২, আমি রিস্ক নিতে পারবো না। ডা. রেহনুমার এই হটকারি সিদ্ধান্তে জোরালো সমর্থন দেন উপস্থিত নার্স ও টেকনিশিয়ানগণ।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয় ডায়ালাইসিস শেষে রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়া হয়। এমনকি হুইল চেয়ারে বসিয়ে বাহিরে নিয়ে যেতে উপস্থিত নার্সদের নির্দেশ দেন। একজন শ্বাসকষ্ট রোগীকে কিভাবে অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া নিয়ে যেতে বলছেন, জানতে চাইলে ডা. রেহনুমা খুব রেগে যান। পরে অক্সিজেনের অভাবে হুইল চেয়ারেই তার মৃত্যু হয়।

রোগীর এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে স্যান্ডর কর্তৃপক্ষ এবং ডাক্তার রেহনুমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তার পরিবার। স্যান্ডর কর্তৃপক্ষের সাথে চমেক কর্তৃপক্ষের চুক্তি বাতিল করে এই ডায়ালাইসিস কেন্দ্রটি চমেকের কিডনী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য দাবি জানান প্রয়াত রোগীর স্বামী এম. এ মাসুদ। স্যান্ডর কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মারফত ১০ কোটি টাকা ক্ষুতিপূরণ আদায়ের মাধ্যমে ওই টাকা কিডনী রোগীদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহতের স্বজনরা। তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডিজি হেলথ, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বি.এম.এ), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনসহ সকলের প্রতি এই ঘটনার বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

এসসি

Advertisement

CTG NEWS