চলুন যাই ভূতের বাড়ি

151
 সিটিজিনিউজ ডেস্ক |  রবিবার, মে ২২, ২০২২ |  ৪:১১ অপরাহ্ণ
চলুন যাই ভূতের বাড়ি
       
Advertisement

করোনার প্রভাবে দীর্ঘ দুই বছর গৃহবন্দি অবস্থায় কেটেছে সবার জীবন। কাজ বা প্রয়োজন ছাড়া কারও কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠেনি। যাঁরা ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য কতটা মানসিক কষ্টের ছিল দিনগুলো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ায় একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিতে মানুষ ছুটছে দিগ্বিদিক। আপনিও চাইলে ঘুরে আসতে পারেন বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ভূতের বাড়ি খ্যাত সাতআনি জমিদার বাড়ি। এখানে আরও দেখতে পাবেন ভাসমান ধান-চালের হাট, ইউনেস্কো কর্তৃক পুরস্কৃত ভাসমান সবজি চাষ, শেরেবাংলা জাদুঘর, বায়তুল আমান মসজিদ, দুর্গাসাগর ও ব্যাকওয়াটার।

সাতআনি জমিদার বাড়ি

Advertisement

বরিশালের পূর্বে কীর্তনখোলা নদী ও পশ্চিমে মায়াবী সন্ধ্যা নদী অবস্থিত। এই সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী স্থানেই সাতআনি জমিদার বাড়ি অবস্থিত। প্রায় ২২ একর বাড়িটিতে ২৪টি দালান রয়েছে। তার মধ্যে দুটি দালান বর্গি আমলের। আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য দালান দুটিতে একটি দরজা ও দুটি জানালা দেখা যায়। বালাখানা নামে একটি দালান ছিল সেখানে। নায়েবরা বসতেন সেই বালাখানায়। ২৪টি দালানের মধ্যে কয়েকটি পূজার মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যেমন রাধামাধব মন্দির, দুর্গামন্দির ইত্যাদি।

আশ্চর্যজনক হলেও সেখানে একই মন্দিরে একসঙ্গে তিনটি দুর্গাপূজা হতো। মহিষ বলিদান হতো এবং পরে মহিষের পরিবর্তে ভোগ দেওয়া হতো। এ ছাড়া নারায়ণ ও মনসা মন্দিরও ছিল। দুর্গাপূজার সময় এই বাড়িতে যাত্রা, থিয়েটারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো। এখনও সেখানে ঐতিহ্য ধারণ করে পালন করা হয় সাতআনির পার্শ্ববর্তী মন্দিরে ১০ হাত লম্বা কালীমাতার কালী পূজা। দত্তপাড়া আসার জন্য ব্রিজ পার হলেই যেটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা হলো একটি সহমরণ সমাধিক্ষেত্র, যা ভারতবর্ষের সহমরণ প্রথার সাক্ষী হয়ে আছে।

সাতআনিতে একটি পঞ্চম শ্রেণির স্কুল ছিল। ইন্দির আইচ নামে একজন নামকরা পণ্ডিত সে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন। এই স্কুলে নিমাচাঁদ চক্রবর্তী মহাশয়ও শিক্ষকতা করতেন। ধর্ম খার বংশের উত্তরসূরি মতিলাল ভৌমিক অত্র অঞ্চলের আলো ছড়ানো বিদ্যাপিঠ বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনারারি (বেতন নিতেন না) শিক্ষক ছিলেন। ভীম ভৌমিক ভারতবর্ষের একজন বিখ্যাত খোলবাদক ছিলেন। সেবার পুণ্যব্রত নিয়ে সুনামের সাথে কাজ করে গেছেন ডা. লক্ষ্মীকান্ত ভৌমিক ও তাঁর সহকর্মী ডা. সূর্য কান্ত সাহা। ডা. সূর্য কান্ত সাহার পুত্র ডা. উত্তম কুমার সাহা এখন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ।

একসময়ের ঘনবসতিপূর্ণ বাড়িটি আজ নীরব। মনে হয়, মুকুটটা পড়ে আছে শুধু রাজা নেই! চামচিকা, সাপ, কাঠবিড়ালি, বেজি ও বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়, বড় বড় লতা-গাছ-গুল্ম ও ঘন জঙ্গলকে ধারণ করে দালানগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। পরিত্যক্ত দালান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে সাতআনি এখন পরিপূর্ণ। পূর্বে যারা বসবাস করত তারা এখন আর এই বাড়িতে আসে না। আমরা কি পারি না ইতিহাসের সাক্ষী এই সাতআনিকে আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে?

যাতায়াত

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস, বিমান কিংবা লঞ্চে বরিশাল আসতে হবে। এরপর বরিশাল বাসস্ট্যান্ড থেকে বানারীপাড়া (ভাড়া ৪০ টাকা) আসতে হবে। বানারীপাড়া সন্ধ্যা নদীর খেয়া পার হয়ে একটু সামনেই দেখা মিলবে এই নিদর্শনটির।

থাকা-খাওয়া

বানারীপাড়া একটি পৌরশহর। এখানে থাকার জন্য একটি সরকারি ডাকবাংলো রয়েছে। তবে এই এলাকা ভ্রমণ করে দিনে দিনেই আপনি ফিরে যেতে পারবেন।

খাবার জন্য বাজারে বেশ কয়েকটি হোটেল পাবেন। নদীর নানা প্রজাতির তাজা মাছের জন্য বেশ সুনাম রয়েছে বানারীপাড়ার রেস্টুরেন্টগুলোর। সন্ধ্যা নদীর তাজা মাছের স্বাদে সারা দিনের ভ্রমণের কষ্ট ভুলে যাবেন।

এন-কে

 

Advertisement

CTG NEWS