স্মৃতির রোমন্থনে হাটহাজারীতে রুহুল আমিন

118
  |  শনিবার, মে ৭, ২০২২ |  ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রুহুল আমীন
       
Advertisement

স্মৃতির রোমন্থনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দেখতে গিয়েছিলেন হাটহাজারী উপজেলার সাবেক নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বর্তমানে তিনি চা বোর্ডের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। হাটহাজারীতে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সততার কারণে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিত।

আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং প্রকল্পের বাসিন্দাদের নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস দেন রুহুল আমিন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, আমি হাটহাজারী থেকে চলে আসার আগেই আশ্রয়ণের ঘরগুলো উদ্বোধন করা হয়েছিল। বরাদ্দপ্রাপ্তরাও ওঠে গিয়েছিলেন, আমি চলে আসার আগে তাদের ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আজ হাটহাজারী দিয়ে ফেরার পথে দেখতে গেলাম আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের। বেশ ভালোই আছেন সবাই। সবার বাড়ির আঙিনায় দেখা গেলো শাকসবজির চাষ। অনেকেই আবার হাস-মুরগীও পালেন। অমাকে দেখে কেউ শরবত খাওয়াতে চাইলেন, কেউ সেমাই, কেউ বসতে বললেন রান্না করে খাওয়াবেন বলে। একজন এসে জানালেন, পুকুরে আপনার দেওয়া মাছ আমরা সবাই মিলে খেয়েছি। এক গৃহিণী জানালেন তিনি মুরগী পালেন; আমাকে একটা মুরগী দিতে চান। আমি বললাম,মুরগীর দরকার নাই-আমাকে একটা ডিম দেন। হাসিমুখে একটা দিলেন তিনি। আমিও গ্রহণ করলাম।

Advertisement

রুহুল আমিনের এমন স্ট্যাটাস জুড়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কমেন্টে অভিনন্দনের ঝড় ওঠে।

করিম সৈয়দ নামে একজন লিখেন, একমাত্র সততা ও আন্তরিকতা দিয়েই মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব -যা আপনি করে দেখিয়েছেন। শুভ কামনা।

রোদেলা চৌধুরী নামে এক শিক্ষার্থী লিখেন, আপনার মতো মানুষের অভাব কখনও অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ সম্ভব না, আমরা হাটহাজারীবাসী আপনাকে কি আবার ফিরে পাবো স্যার? আপনাকে সবসময় দরকার হাটহাজারীবাসীর।

এস এম নাজিম নামে একজন লিখেন, ভালবাসা অবিরাম, কিছু মানুষ তার কাজের জন্য মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয় তার মধ্যে আপনিও অন্যতম।

শাহজাহান নামে একজন লিখেন, আমার বাড়ি রামগড়, খাগড়াছড়ি কিন্তু আমি যতটুকু জানি আপনার নাম হাটহাজারীবাসী আজীবন মনে রাখবে। আপনার সততাই আপনাকে মানুষের হৃদয় পযন্ত পৌছে দিয়েছে স্যার। দোয়া করি মহান আল্লাহ সব সময় যেনো আপনার সহায় হোন, আমিন।

দীর্ঘ দিন পর সাবেক নিজ কর্মস্থলে নিজের অনুভুতির বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ রুহুল অমিন সিটিজি নিউজকে বলেন, এই পথ ধরে ফিরছিলাম। হঠাৎ আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের কথা মনে পড়লো। আমার প্রতি তাদের অন্তরিকতা, ভালোবাসা যে এখনও তাদের মধ্যে বিদ্যমান তা পেয়ে আমি খুশি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে গিয়েছিলাম। তার প্রতিফলন আজ তারা পাচ্ছে দেখে অনেক ভালো লেগেছে। এক সময় তাদের মধ্যে হতাশার ছাপ ছিল কিন্তু আজকে তা নেই।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে হাটহাজারীতে যোগ দেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন। দুই বছর ৮ মাস দায়িত্বপালন শেষে ২০২১ সালের জুলাইয়ে হাটহাজারী থেকে বদলি হন তিনি। পদোন্নতি পেয়ে উপসচিব হিসেবে যোগ দেন চা বোর্ডে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহুল আমিন চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দায়িত্বভার গ্রহণের দুই বছর নয় মাস পর শেষবারের মতো পরিদর্শন করেন উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ত্রিপুরা পাড়া। বহু বছর অবহেলিত এই পল্লীর জনগণকে দেখিয়েছেন মানুষের মতো বাচাঁর স্বপ্ন। এর আগে তিনি নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ত্রিপুরা পল্লীকে পাল্টে দিয়েছেন।
হাটহাজারী উপজেলায় ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের অবহেলিত,অন্ধকারাচ্ছন্ন মনাই ত্রিপুরা পাড়ার আমুল পরিবর্তন করে দেশজুড়ে আলোচিত হন রুহুল আমিন। একইভাবে সৎ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতিও পান তিনি। হালদা রক্ষায় ইউনও রুহুল আমিনের সময়পোযোগী পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়।

এসসি/এনইউএস/এমজে

Advertisement

CTG NEWS