রীমা কনভেনশনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা, টিকার জন্য সংক্রমণের ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা!

183
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১১, ২০২২ |  ৭:০৮ অপরাহ্ণ
রীমা কমিউনিটি সেন্টারে টিকা কার্যক্রম
       
Advertisement

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বারবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে, মাস্ক পরিধানসহ দূরত্ব বজায় রেখে চলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও চট্টগ্রামে খোদ শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে এর কোনো বালাই ছিলো না। টিকা কেন্দ্রের বাহিরে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের ছিলো উপচে পড়া ভিড়। এমতাবস্থায় নিজ নিজ বিদ্যালয়ে ক্যাম্প না করে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে কয়েকটা স্কুলের শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে এক সঙ্গে টিকা প্রদানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।

সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামে তিনটি ভ্যানুতে ১২ থেকে ১৭ বছরের শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা প্রদান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisement

আজ ১১ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল থেকে দিতীয় দিনের মতো নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, আসকার দীঘির পাড়ের রীমা কনভেনশন সেন্টার ও সিরাজউদদৌলা সড়কের হল সেভেন ইলেভেনে টিকা কার্যক্রম চলে। রীমা কনভেনশন হলে বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জা আহমেদ ইস্পাহানি স্মৃতি বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় ও ছাফা মোতালেব হাই স্কুল নামে ৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ আছে, করোনার ঝুঁকি এড়াতে টিকা প্রদান করা হলেও অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টিকা নিতে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। গাদাগাদি করে টিকা নিতে হচ্ছে তাদের।

ফাতেমা আক্তার নামের আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাকে টিকা দিতে এসেছি। স্কুলেই টিকা দিলে ভালো হতো। এখানে করোনা ঝুঁকি এড়াতে টিকা নিতে এসে সংক্রনের ঝুঁকিতে আছি। তাছাড়া রাস্তা পারাপারে জীবনের ঝুঁকিতো আছেই।

 

সরেজমিনে রীমা কনভেনশন হলে দেখা গেছে, দল বেধে টিকা নিতে আসছেন শিক্ষার্থীরা। গাড়ি থেকে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে । সামান্য অসাবধানতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনার মতো অনাখাঙ্কিত ঘটনা। রীমা কনভেনশন হলের দ্বিতীয় তলায় টিকা দেয়ারস্থলেও নেই অনেকের মুখে মাস্ক, মান হচ্ছে না স্বাস্থবিধি। প্রবেশের পর অনেকটা গাদাগাদি করে সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠতে হচ্ছে। টিকা দেয়ার পর টিকাদান কার্ডে প্রদানকৃত ডোজের নাম ও পরবর্তী তারিখও উল্লেখ নেই।

বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জনি কান্তি পাল বলেন, সারা মহানগরীতে মাত্র তিনটি ভ্যানু করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজকে শিক্ষার্থীদের ভিড় অনেক কম। গতকাল শিক্ষার্থীদের ভিড় আরও বেশি ছিল। যদি স্কুলগুলোতে আলাদা আলাদা টিকা দেওয়া যেতো তাহলে ভালো হতো। এখানে আসতে শিক্ষার্থীদের যানজটের ভোগান্তির পাশাপাশি রাস্তা পারাপারে জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে বা অভিভাবকদের সাথে আসার কথা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ব্যক্তিগতভাবে এখানে চলে এসেছে।

একই উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফলাতুল নিছা বলেন, কয়েকজন বান্ধবীকে সাথে নিয়ে টিকা নিতে এসেছে সে। এখানে আসতে যানবাহনের সংকটের পাশাপাশি রাস্তা পারাপারে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদেরকে।

পাহাড়তলী থানার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল আরেফিন বলেন, রীমা কনভেনশন হলে বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মির্জা আহমেদ ইস্পাহানী স্মৃতি বিদ্যালয়, আলহাজ্ব আনোয়ারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় ও ছাফা মোতালেব হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হচ্ছে। এই চার প্রতিষ্ঠানের ৬’শ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার কথা রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষক বা অভিভাবকদের সাথে এসেছে।

এর আগে গতকাল সোমবার নগরীর জামালখানের রীমা কনভেনশন হল, সিরাজউদ্দৌলা রোডের হল সেভেন ইলাভেন এবং আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের আবদুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারে টিকা দান শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের আবদুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টার ভেনুটি পরিবর্তন করে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে নতুন ভেনু নির্ধারণ করা হয়। তারই ধারাবাহিতায় এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, আসকার দীঘির পাড়ের রীমা কনভেনশন সেন্টার ও সিরাজউদদৌলা সড়কের হল সেভেন ইলেভেনে টিকা  প্রদান শুরু হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা বলেন, চট্টগ্রামে পর্যায়ক্রমে ২ লাখ ৭৮ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। গতকাল তিন ভ্যানুতে ১৮ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাকার্ডে ডোজ ও পরবর্তী তারিখের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাইকে ফাইজার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তা পূরণ করে শিক্ষার্থীদের দিবেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবু রায়হান দোলন বলেন, আজ মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে ডোজ দেওয়া হয়েছে। ডোজের জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাই ভেনু বাড়ানো বা স্কুলে গিয়ে ডোজ দেয়া সম্ভব নয়। তাই সংক্রমণের ঝুঁকি ও যাতায়তে কষ্ট হলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনটি ভ্যানু করে ডোজ দেওয়া হচ্ছে।

এনইউএস/এসসি

Advertisement

CTG NEWS