জলাবদ্ধতা নিরসন সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় মেয়র

জলাবদ্ধতা নিয়ে সৃষ্ট জনদুভোর্গ শেষ হবে শুষ্ক মৌসুমে

100
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  রবিবার, জানুয়ারি ৯, ২০২২ |  ৬:২৯ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসন সংক্রান্ত সমন্বয় সভায় মেয়র
       
Advertisement

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রাম নগরীতে যেকোন উন্নয়ন কাজ করতে হলে চসিকের সাথে সমন্বয় করে করতে হবে। জলাবদ্ধতা নিয়ে যে সংকট এখন বিদ্ধমান তা এই শুকনো মৌসুমে শেষ করতে হবে। ১৮টি খালে যে কাজগুলো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা অবগত করেছে তা সম্পূর্ণভাবে পানি চলাচলের উপযোগী করতে হবে।

আজ ৯ জানুয়ারি, রোববার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলবদ্ধতা সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

Advertisement

মেয়র বলেন, বে-টার্মিনালের নির্মাণের যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে তাতে নগরীর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চসিক নগরীতে যে সড়কগুলো নির্মাণ করছে তা দিয়ে ৮ থেকে ১০টনের বেশি পণ্যবাহী গাড়ী চলাচল করার উপযোগী নয় তবে বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষের ৩০ থেকে ৪০টনের গাড়ি চলাচল করছে এতে করে সড়ক সমূহের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি এবিষয়টি বিবেচনায় নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান জহুরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সচল রেখে সকল উন্নয়ন কাজ করতে হবে। তিনি কর্ণফুলী রক্ষায় পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। আইসিডি স্থাপনে নগরীর অন্তত ২০কি.মি. দূরত্ব বজায় রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সদয় দৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান।

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থার প্রকল্প পরিচালক লে: কর্ণেল মো. শাহ আলী বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের ৬০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুকনো মৌসুমের মধ্যে নগরীর ১৮থেকে ২০টি খালের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হবে। ৪২টি সীল্টট্রেপ স্থাপনের কাজ চলছে। সব ঝুঁকিপূর্ণ ড্রেনের উপর স্লা্যব করা হবে। উন্মুক্ত খালগুলোতে ২ফিট উচ্চতার রেলিং করা হবে। তিনি রাজাখালি, রুবি সিমেন্ট, রামপুর ও ত্রিপুরা খালের কাজ এই বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে জানান।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান খান বলেন, কর্ণফুলী নদীর রক্ষনাবেক্ষণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নদীর একটি ব্যাঙ্ক লাইন থাকে, এই ব্যাঙ্ক লাইন মেনে চলতে না পারলে নদী নাব্যতা হারায় এবং তার নিজস্ব গতিপথ হারিয়ে ফেলে। কর্ণফুলী নদীর সাথে নগরীর ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ খালের সংযোগ রয়েছে। এই খালগুলো দিয়ে বর্জ্য পতিত হয়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বে-টার্মিনাল নির্মাণের আগে সকল সেবা সংস্থার সাথে মতামত গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শিবেন্দু খাস্তগীর বলেন, বে-টার্মিনাল নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনে যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। পাহাড় কাটার কারণে কর্ণফুলী ও হালদা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৬শ ২০কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। তিনি এই কাজগুলো বাস্তবায়নে চসিকসহ সেবা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার পয় নিষ্কাশন প্রকল্প ও রোড কাটিংয়ের কাজ সমন্বয় করতে একজন প্রকৌশলীকে লিয়াজো করার দায়িত্ব অর্পন করা হচ্ছে বলে জানান।

সিএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মো. তারেক আহম্মেদ বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াসা যে রাস্তাগুলো কর্তন করে সে বিষয়ে পুলিশকে আগেভাগে অবগত নয় বলে যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে বেগ পেতে হয়। তিনি রাস্তা কর্তন বিষয়ে চসিক যে অনুমতি পত্র প্রদান করে তার একটি অনুলিপি ট্রাফিক বিভাগ বরাবর প্রেরণ করতে অনুরোধ জানান।

চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, চসিক সচিব খালেদ মাহমুদ, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, চউক সচিব মো. আনোয়ার পাশা, প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামছ, বন্দরের সিনিয়র হাইড্রোগ্রাফার মো. নাছির উদ্দিন, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি রায়হান মাহবুব, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক। উপস্থিত ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম, মনিরুল হুদা, আবু ছালেহ, সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, ফরহাদুল আলম, রাজীব দাশ, অতিরিক্ত প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর চৌধুরী প্রমুখ।

এফএম/

Advertisement

CTG NEWS