পরকীয়া সন্দেহে খুন হলেন সিকিউরিটি সুপারভাইজার

288
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  শনিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২১ |  ৩:২৭ অপরাহ্ণ
পরকীয় সন্দেহে গার্মেন্টস সিকিউরিটি সুপারভাইজারকে পিটিয়ে হত্যা,
       
Advertisement

নগরীর পতেঙ্গায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সন্দেহে আবু তাহের (৪৮) নামের এক গার্মেন্টস সিকিউরিটি সুপারভাইজারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে সাবেক স্বামী আব্দুল জলিল । এ ঘটনায় অভিযুক্ত জলিলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ২ টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত ৮ টায় তালাকপ্রাপ্ত নারী রওশন আরা’র সাথে পরকীয়া সন্দেহে আবু তাহেরকে গুরুতর জখম করে তার সাবেক স্বামী আব্দুল জলিল।

Advertisement

এদিকে এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা ৬ জনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে নোয়াখালী জেলার কিল্লার হাটে অভিযান চালিয়ে আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জলিল পঞ্চগড় তেতুলিয়া ফকির পাড়ার মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে। এর আগে ওই দিন রাত আনুমাণিক পৌনে দুইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু তাহের মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত আবু তাহের রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার কলমতলী নাইল্যারছড়ির মৃত শাসছুদ্দিনের ছেলে। তিনি কর্ণফুলী ইপিজেড এর এএইচকেডি গার্মেন্টেস এর সিকিউরিটি সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি পতেঙ্গা থানার স্টিলমিল নূর নবীর গলিতে ভাড় বাসায় থাকতেন।

স্থানীয়রা জানায়, আবু তাহেরের প্রতিবেশী আব্দুল জলিল ও রওশন আরা (৩৩) তাদের ১২ বছরের সন্তান নিলয়কে নিয়ে একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করেন। রওশন আরার স্বামী নোয়াখালীতে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে রওশন আরা ও আব্দুল জলিলের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। কয়েকবার আবু তাহের তাদের সমস্যার সমাধানও করে দেন। কিন্তু এক পর্যায়ে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। রওশন আরা আবু তাহেরকে ভাই বলে সম্বোধন করতেন। আবু তাহেরও ছোট বোনের মত রওশন আরাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতো। ডিভোর্সের পরও আব্দুল জলিল স্ত্রী রওশন আরাকে প্রায় ফোন করে পুনরায় সংসার করার অনুরোধ করতেন।

পুলিশ জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার আব্দুল জলিল নোয়াখালী হইতে চট্টগ্রামে আসেন এবং পতেঙ্গা থানাধীন খেঁজুরতলা এলাকায় রওশন আরার মামীর বাসায় উঠেন। গত মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) আব্দুল জলিল সাবেক স্ত্রী রওশন আরার বাসায় আসে এবং রাত্রিযাপন করে। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সে বাহিরে গেলে রওশন আরা ১২ বছর বয়সি ছেলেকে নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। আব্দুল জলিল বাসায় ফিরে রওশন আরাকে না পেয়ে প্রতিবেশী আবু তাহেরকে জিজ্ঞাসা করেন। রওশন আরার সহিত আবু তাহেরের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে মর্মেও আব্দুল জলিল সন্দেহ করতেন। তার ধারনা, রওশন আরা এবং তার ছেলেকে আবু তাহের লুকিয়ে রেখেছে। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে আব্দুল জলিল, রওশন আরার এক মামাতো ভাই এবং মামাতো বোন জামাইসহ তিনজন আবু তাহেরের বাসা থেকে তাকে ডেকে নিচে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। পরে গুরুতর আহতবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা বলেন, শুনেছি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আব্দুল জলিলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাকী আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক হত্যাকারীদের শাস্তি কামনা করছি।

পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন সিটিজি নিউজকে বলেন, গত রাতে (শুক্রবার) নোয়াখালীর কিল্লার হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবু তাহের হত্যার ১ নং আসামি আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গ্রেফতারকৃত জলিলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এনইউএস/এসসি

Advertisement

CTG NEWS