সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ: অগ্রযাত্রার একটি গল্প!

415
 নিজস্ব প্রতিবেদক: |  শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০২১ |  ১২:০৬ অপরাহ্ণ
       
Advertisement

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হতে পারে দেশের অর্থনীতি। স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের জন্য এখন রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত।

পদ্ম সেতু প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। AECOM এর নকশায় পদ্মা নদীর উপর বহুমুখী আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর’ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে। প্রায় শেষ ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ , যা দেশের অর্থনীতির মজবুত অবস্থার একটি অন্যতম নিদর্শন। এছাড়া দেশের অর্থনীতির অন্যতম হাতিয়ার মেট্রোরেল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরের মতো প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে।

Advertisement

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র মো.রেজাউল করিম চৌধুরী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে মনে প্রাণে ভালোবাসেন তাই দেশের অন্যতম প্রকল্প বঙ্গবন্ধু টানেল বাস্তাবয়ান করেছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ একটি ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রার গল্প তৈরি করতে পেরেছে। এখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় রয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে কারণ স্বাধীনতার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রকল্পের সিদ্ধান্ত যেগুলো ধাপে ধাপে দেশকে দরিদ্রমুক্ত রাখছে।

বর্তমান সরকারে প্রচেষ্টায় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে দেশের রূপান্তরের মূল উপাদান ছিল তৈরি পোশাক খাতের উত্থান। অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্যমতে, এটি মোট শ্রমশক্তির ৪০.৬ ভাগ জোগান দিয়ে থাকে যাদের বেশিরভাগই নারী; এবং এই খাতে বছরে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় হয়, যা মোট রপ্তানির ৮৪% এবং দেশের জিডিপিতে এর অবদান ১৪.১০ শতাংশ। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় এই খাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক হিসেবে প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থকে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশি কর্মীরা ২০২০ সালে প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ফলে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশীয় শ্রমবাজারে শ্রমশক্তির চাহিদা ও জোগানের সমন্বয়হীনতার কারণে প্রবাসের শ্রমবাজার আমাদের শ্রমশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তবে শুধু প্রবাসী শ্রমিকরাই নয়, অভ্যন্তরীণ শহরবাসী আভিবাসীদের আয়ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে সাহায্য করে আসছে।

অর্থ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পেতে শুরু করে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ৯০,০০০ ডলার এফডিআই পেয়েছে, এবং ২০১৯ সালে এই পরিমাণ রেকর্ড ৩.৬১ বিলিয়নে পৌঁছেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকায় ভাড়াভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন এবং সেগুলো থেকে বিদ্যুত কেনা শুরু করেছিল সরকার। একযুগ আগের সে সংকট এখন নেই। ১৯৯১ সালে দেশে বিদ্যুতের পর্যাপ্ততা ছিল ১৪% এবং ২০২১ সালে তা ৯৯% এ পৌঁছেছে।

সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭২ সালে দেশে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন ছিল ৯.৯ মিলিয়ন টন, সেখানে ২০২০ সালে মোট খাদ্যশস্যের উত্পাদন দাঁড়িয়েছে ৪৫.৪ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম চাল এবং তৃতীয় বৃহত্তম স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ।

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) মতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের মতো অস্থিতিশীলতার কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভঙ্গুর হওয়ায় স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের যাত্রা ছিল কঠিন। ২০০৯ সাল থেকে, দেশে অর্থনৈতিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে,বাংলাদেশ এখন অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত।

এমকে

Advertisement

CTG NEWS