‘চরমোনাই ভাইয়েরা এখনো সময় আছে, মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন’

225
 তানভীর আহমেদ রিমন, লক্ষ্মীপুর  |  বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২, ২০২১ |  ৫:২৯ অপরাহ্ণ
‘চরমোনাই ভাইয়েরা এখনো সময় আছে, মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন’
       
Advertisement

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু ইউসুফ ছৈয়াল প্রতিপক্ষ ইসলামি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী সালেহ আহম্মদকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট পূর্ব বাজারে নির্বাচনী এক সভায় এমন হুমকি দেন তিনি। আবু ইউসুফ ছৈয়াল সদর উপজেলার ২০ নম্বর চররমনী মোহন ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান।

Advertisement

অভিযোগ আছে, চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা এবং আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছৈয়াল ও তার ভাতিজাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জুন আব্দুস সহিদ নামে এক জেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও তার ছেলে আবু সুফিয়ানসহ ১৩ জনের নামে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, চুরির অপবাদ দিয়ে চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়ালের নির্দেশে আমীর হোসেন নামে এক কৃষককে গাছে বেঁধে বর্বর নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর তাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। দুটি মামলায় বেশির ভাগ আসামিই চেয়ারম্যানের আত্মীয়-স্বজন। একই বছরের ২২ জুলাই সুমাইয়া ইসলাম শান্তা নামে তার পুত্রবধূ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় চেয়ারম্যান ছৈয়াল ও তার ছেলে আবু সুফিয়ানকে আসামি করা হয়।

এদিকে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে দেওয়া এমন হুমকিতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন- দল থেকে নৌকা প্রতীক পেলেও এলাকায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার জনপ্রিয়তা তলানিতে। তার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে এলাকার সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রতীক না পেয়েও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, আপনারা (ইসলামী আন্দোলন) যদি প্রতাহার না করেন, তাহলে আমাদের ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হবে। শুধু আপনাদের হাতপাখার কারণে। অতীতে যেটা মনে করেছেন, সেটা ভূল ধারণা। আমি আপনাদেরকে হুঁশিয়ার করতে চাই। অতীতে যেটা চিন্তা ভাবনা করেছেন, এটা এবার ইনশাআল্লাহ হবে না। আমি জোর গলায় বলতে পারি ইউনিয়নের যে নেতাকর্মীরা আছেন তারা অন্তত নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

ছৈয়াল বলেন, আপনারা চিন্তা ভাবনা করুন। আপনাদের আমরা হুমকি-ধমকি দেবো না, কিছু বলবো না। কিন্তু দেখা হবে নির্বাচনের পরে। নির্বাচনের পর আপনাদের সঙ্গে মাদ্রাসা-মসজিদে দেখা হবে। সেদিন আপনাদের সঙ্গে কথা বলা হবে- আপনারা আমাদের পূর্ণ ২০ লাখ টাকা অপচয় করেছেন। আজকে কেন আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাই আমি এখনো বলি- সময় থাকতে চিন্তা করুন। আমাদের টাকাগুলো খরচ করাবেন না, পয়সা খরচ করা শয়তানদের লক্ষণ। এ টাকাগুলো খরচ না করে সৎ পথে, মাদরাসা-মসজিদে খরচ করতে আমরা রাজি। এতে এলাকার উন্নয়ন হবে, মাদরাসা-মসজিদের উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, চরমোনাই ভাইয়েরা আপনাদের এখনো সময় আছে, মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। আমাদের টাকা খরচ করালে আপনাদের সঙ্গে আমাদের একটা শক্রতা সৃষ্টি হবে। অতীতে ১০ বছর আমি চেয়ারম্যানি করেছি। আপনাদের সর্বদিকে সহযোগিতা করেছি। কখনো অসম্মান করিনি। আজকে আপনাদের জন্য যদি আমাদের ১৫-২০ লাখ টাকা অপচয় করতে হয়। তাহলে, অবশ্যই আপনাদের সঙ্গে আমাদের একটা দ্বন্দ্ব থাকবে, হিংসা থাকবে, একটা মন কষ্ট থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ চররমনীতে বিএনপির যে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন, তারা আমাদের এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, চরমোনাই (হাতপাখা) উঠে গেলেই আমরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবো। তাহলে বুঝা গেল আপনাদের কারণে আমাদের ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হবে।

এ ব্যপারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সভাপতি অনারারী ক্যাপ্টেন (অব.) মো. ইব্রাহিম বলেন, নির্বাচন থেকে সরে যেতে নৌকার প্রার্থী শুধু প্রকাশ্যে নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। তারা খালি মাঠে গোল দিতে চায়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল বলেন, নির্বাচনের নামে টাকা অপচয় করে লাভ কি? আমার ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হবে। তাই বলেছি টাকাগুলো তোরা (হাতপাখা) নিয়ে যা, মসজিদ মাদরাসায় খরচ কর। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আমি বসবো।

পরাজয়ের শঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সরিয়ে দিতে চান কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি দু’বার জয়ী হয়েছি। পূর্বেও আমার সঙ্গে বিএনপি এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। কিন্তু নৌকা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে।

জানতে চাইলে রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দেবেশ কুমার সিংহ বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এছাড়া এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলতে পারেনা। এটিও আচরণ বিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। কোন প্রার্থী যদি তথ্য প্রমাণ সহকারে লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসসি

Advertisement

CTG NEWS