আইএবি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর সমাপনী অনুষ্ঠানে মেয়র

চট্টগ্রামের উন্নয়নে চসিক ও চউক একে অপরের পরিপূরক

233
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  রবিবার, নভেম্বর ২১, ২০২১ |  ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামের উন্নয়নে চসিক ও চউক একে অপরের পরিপূরক
       
Advertisement

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে যে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে বা হতে যাচ্ছে তাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জড়িত আছে। এই দুই সংস্থাকে এক সাথে কাজ করতে হবে এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চট্টগ্রামকে একটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

শনিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউ মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব আরর্কিটের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান মালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

Advertisement

তিনি আরো বলেন, গভীর সমুদ্র বন্দর, বে-টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু ট্যানেল, মিরসরাই ইকোনিম জোন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ যে সকল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দাঁড়িয়ে যাবে। তাই চট্টগ্রামের অপার সম্ভাবনার বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয়েছে। সুতরাং চট্টগ্রাম শুধু একটি অঞ্চল নয়, জাতীয় ও বৈশি^ক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামকে এগিয়ে নিতে হলে চসিক ও চউকসহ সকল সেবা সংস্থার সমন্বয়ের বিষয়টি আমলে এনে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। এই চট্টগ্রাম নগরী কোন ব্যক্তির নয়, মেয়রের নয় বা সিডিএ’র চেয়ারম্যানের নয়, প্রতিটি নাগরিকের। তাই আমাদের সকলের সমন্বিত দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দৃশ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানে বাস্তবমূখি পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগত সাংঘর্ষিক বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের ঐতিহ্যের সাথের স্থাপতা কলার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান, মিশরের পিরামিত, তাজমহলসহ অনেক প্রাচীন স্থাপনা আমাদের পূর্বসূরীদের মেধা ও মননের শৈল্পিক নিদর্শন রেখে গেছে। তবে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান মনষ্কতার আলোকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সাথে নতুন যোগসূত্র রচনায় স্থপতি ও প্রকৌশলীদের ভাবনা চিন্তায় আধুনিকতার প্রায়গিক কলা কৌশল প্রয়োজন। আশা করি আজকের স্থপতি ও প্রকৌশলীগণ সে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পূর্বের সকল সুকৃতির জন্য আমরা যেমন গর্ব বোধ করি একই ভাবে আমাদের কাজের জন্য যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম গর্ব বোধ করতে পারে সেই ধরনের কিছু দৃষ্টান্ত ও নিদর্শন অবশ্যই রেখে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসহ যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপর দায় দায়িত্ব বর্তেছে তা বাস্তবায়নে চসিকসহ প্রত্যেকটি সেবা সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা একে অপরের উপর কোনভাবে দোষ চাপাতে পারিনা। তাই একসাথে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারাদেশের মঙ্গল ও কল্যান নিশ্চিত হবে। তিনি নতুন প্রজন্মের স্থপতিদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবকাঠামোগত স্থাপনায় সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা প্রয়োগের আহ্বান জনান।

ইনস্টিটিউট অব আরর্কিটের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান স্থপতি আশিক ইমরানের সভাপতিত্বে স্থপতি বিজয় তালুকদার ও সিনথিয়া শবনমের সঞ্চলনায় দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সমাপনী দিনে আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সভাপতি জালাল আহমদ।

এসময় স্থপতি বিধান বড়ুয়া, আহমেদ জিন্নুর চৌধুরী, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম খান, নাজমা সুরাইয়া খান, নাজমুল লতিফ (সুহাইল)সহ ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্থপতি ও ছাত্র-ছাত্রীগণ উপস্থিত ছিলেন।
এফএম/

Advertisement

CTG NEWS