প্রশাসনের লম্বা ঘুম, অসহায় স্থানীয়রা

মাদক বিক্রির নিরাপদ আস্তানা সাফওয়ান টাওয়ার, চলে অনৈতিক কাজও!

715
 তানভীর আহমেদ রিমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি |  সোমবার, নভেম্বর ৮, ২০২১ |  ৩:২৪ অপরাহ্ণ
লক্ষীপুর সাফওয়ান টাওয়ার যেন 'ভূতের বাড়ি '
       
Advertisement

নোয়াখালীর লক্ষীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আত-তামরীন স্কুলের পাশে সাফওয়ান টাওয়ারে মাদক ও জুয়ার আসর বসার অভিযোগ ওঠেছে। বর্তমানে ভবনটি পরিণত হয়েছে মাদক বিক্রি ও সেবনের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে। শুধু তাই নয়, এতে চলে অনৈতিক কাজও!

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোর গ্যাং লিডাররা তাদের বাহিনী নিয়ে আড্ডা জমায় ও মাদক সেবন করে ভবনটিতে। চলে অনৈতিক কাজ। রাত যতই বাড়ে মাদকসেবি ও জুয়াড়িদের চিৎকার-চেচামেচিতে এলাকাবাসী অসহায়ের মতো জীবন যাপন করছে। কেউ ভয়ে মুখ খোলার সাহস করেন না। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাথা ব্যাথা নেই বললে চলে।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাফওয়ান টাওয়ার নামে বহুতল ভবনটির নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চন্দ্রগঞ্জ বাজারটি নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর সীমান্তবর্তী হওয়ায় দুই জেলার মাদক কারবারিরা নিরাপদ স্থান হিসাবে এই ভবনটিকে বেছে নিয়েছে। ১০ তলা বিশিষ্ট এই ভবনে কেউ না থাকায় দিনেও সাধারণ মানুষের সমাগম থাকে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, মাদক চোরাকারবারি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক নেতারা এবং অর্থনৈতিক যোগানদাতা প্রভাবশালীরা। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য এই বাড়িতে মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবনের ব্যাপারে জানে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের কারণে এখানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, মাদক চোরাকারবারি ও সেবনকারিদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে স্থানীয়ভাবে নানা জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। কেননা রাজনীতির পদকে কয়েকজন আলাদীনের চেরাগ হিসাবে ব্যবহার করে। তাদের ছত্রছায়ায় কয়েকজন লোকদিয়ে এই কারবারগুলো করে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে আমার পক্ষ থেকে সহযোগিতা থাকবে।

এসব বিষয়ে জানতে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একে ফজলুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এনইউএস/এসসি

Advertisement

CTG NEWS