থানায় মামলা নেয়নি অতঃপর আদালতে শ্বশুর, ২০ দিন নিখোঁজ ঐশী!

549
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  মঙ্গলবার, নভেম্বর ২, ২০২১ |  ৯:০৪ অপরাহ্ণ
থানায় মামলা নেয়নি অতঃপর আদালতে শশুর, ২০ দিনেও খোঁজ মিলেনি ঐশীর!1
       
Advertisement

রাউজানে নিখোঁজ পুত্রবধু ঐশী বড়ুয়ার সন্ধান চেয়ে ২০ দিন পর চট্টগ্রাম আদালতে নিশান বড়ুয়াকে প্রধান আসামি করে অপহরণের মামলা দায়ের করেছেন শ্বশুর সুদত্ত বড়ুয়া।

আজ ২ নভেম্বর, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ মামলাটি দায়ের করা হয় । এ মামলায় আরও তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

Advertisement

এর আগে ১৪ অক্টোবর রাউজান থানায় পুত্রবধুর সন্ধানে নিখোঁজের ডায়েরী করেন সুদত্ত বড়ুয়া। এর কদিন পর তার পুত্রবধুকে অপহরণ করার খবর পেয়ে মামলা করতে গেলে রাউজান থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে নানা অজুহাতে দেখিয়ে আদালতে যেতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে ২০ দিন পর আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ অক্টোবর প্রবারণার পূর্ণিমার দিন সকাল ১০ টায় সুদত্ত বড়ুয়া তার সহধর্মীনিকে নিয়ে পুজা দিতে মন্দিরে যায়। তাদের বাড়ি ফিরতে দেরি হলে ঐশী বড়ুয়া খোঁজ নিতে বাড়ির বাহিরে আসে। এসময় বাড়ির পাশে ওৎ পেতে থাকা নিশান বড়ুয়াসহ আরও তিনজন তাকে জোর পূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

আজ চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে অপহরণের মামলা দায়েরের পর সিটিজি নিউজকে এমন হয়রানির বিষয়টি জানিয়েছেন সুদত্ত বড়ুয়া।(শশুর)। তিনি বলেন, মন্দিরে আমাদের সাথে ঐশীরও যাওয়ার কথা ছিল। সে কিছুক্ষণ পরে আসছে বললে আমরা দুজন চলে যাই। কিন্তু সে না আসাতে চিন্তা বাড়তে থাকে। হঠাৎ স্থানীয়রা ফোন দিয়ে জানায়, ৩ থেকে ৪ জন যুবক ঐশীকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তখন আমি দ্রুত মন্দির থেকে বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি দরজা খোলা, আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড় সব ছড়ানো ছিটানো। তখন আমি বিষয়টি ঐশীর বাবা রবি কান্তি বড়ুয়াকে জানাই। ওই দিন রাত ১টায় তিনি আমাকে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠান যেটি নিশান বড়ুয়া নামে এক যুবক ঐশীর বোনকে পাঠায়। ক্ষুদে বার্তাটিতে জানানো হয়, ঐশী ভালো আছে। এর পর আমি রাউজান থানায় নিশান বড়ুয়াকে প্রধান আসামি করে অপহরণের মামলা দায়ের করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মামলা না নিয়ে আদালতে যেতে বলেন।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা আল হারুণ সিটিজি নিউজকে বলেন, এই বিষয়ে কেউ আমার কাছে মামলা করার জন্য আসেনি। আপনি ওনাদেরকে থানায় আসতে বলেন।

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ সিটিজি নিউজকে বলেন, থানায় কেন মামলা নেয়নি তা আমার বোধগম্য নয়। একজন প্রবাসীর পরিবারকে যদি রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে না পারে, থানা যদি মামলা না নেয় তাহলে সে যাবে কোথায়? আদালতে আজ অপহরণের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পিবিআইকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ মে রাউজান উপজেলার গুজরা ইউনিয়নের সুদর্শন মাষ্টার বাড়ির সুদত্ত বড়ুয়ার প্রবাসী ছেলে রানা বড়ুয়ার সাথে ফটিকছড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের রবি কান্তি বড়ুয়ার মেয়ে ঐশী বড়ুয়ার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

এফএম/এসসি

Advertisement

CTG NEWS