৩ জানুয়ারি পর্যন্ত টিনুর অন্তর্বতীকালীন জামিন

জামানত হারানো নির্বাচিত কাউন্সিলর টিনু জামিনে মুক্ত

244
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১ |  ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
জামানত হারানো টিনু জামিনে মুক্ত
       
Advertisement

চকবাজার ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর নূর মোস্তফা ওরফে টিনু অন্তর্বতীকালীন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

আজ ২৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় চট্টগ্রাম কারাগার থেকে ছাড়া পান তিনি।

Advertisement

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দীন খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আগামী ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত টিনুকে অন্তর্বতীকালীন জামিন দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জামিনের কাগজপত্র ৪র্থ যুগ্ম চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে দাখিল করা হয়। পরে জামিন মঞ্জুরের আদেশের পক্ষে টিনুর আইনজীবী আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। আদালতের জামিন মঞ্জুরের কপি দুপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর পর মুক্তি পান টিনু।

যদিও কারাগারে বসেই চকবাজার ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে প্রার্থী হন টিনু। সবাইকে তাক লাগিয়ে ২১ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৩ ভোটের ব্যবধানে মিষ্টি কুমড়া প্রতীকে ৭৮৯ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন টিনু। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও জামানত হারিয়েছে তিনি।

২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে শুদ্ধি অভিযানে র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ আটক হন টিনু। পরে টিনুর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি শটগান ও ৬৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সেসময় টিনুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযানটি পরিচালনা করার র‍্যাব জানায় র‍্যাব।

এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে নূর মোস্তফা টিনু ও তার সহযোগী জসিম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে পাঁচলাইশ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মামলাটির অভিযোগপত্রেও নূর মোস্তফাকে অভিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন নুর মোস্তফা টিনু।

এরপর টিনুর জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরবর্তীতে ২৩ মে নুর মোস্তফা টিনুর জামিন বাতিল করে তাকে ১৪ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে টিনুকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি।

এদিকে টিনুকে বরণ করতে মিছিল ও মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে কারাগারের ফটকে ভিড় জমায় তার কর্মী-সমর্থকরা। মুক্তির পর কারাফটকের ভেতর থেকে একটি সাদা প্রাইভেট কারে করে বের হতে দেখা যায় টিনুকে। এ সময় তার গলায় ফুলের মালা, পরনে পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি ছিল।

এসময় টিনু বলেন, আল্লাহর অশেষ দয়ায়, চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসায় আজ আমি মুক্ত। আমাকে চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত করায় চকবাজারের বাসিন্দাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমি সবার আগে আমার পরিবারের সাথে দেখা করতে চাই। আমার চকবাজারে ফিরে যেতে চাই।

আত্মসমর্পণের ১৩১ দিন পর তার জামিন হয়। যদি তার জামিন না হতো, তাহলে ওই ওয়ার্ডে আবার নির্বাচন হতো।

এসসি

Advertisement

CTG NEWS