সম্পত্তির লোভে বাবা-মা, ভাইকে হত্যার অভিযোগ বড় ছেলের বিরুদ্ধে

475
 জাবেদ ভূঁইয়া, মিরসরাই প্রতিনিধি |  বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৪, ২০২১ |  ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
সম্পত্তির লোভে বাবা-মা-ভাইকে হত্যার অভিযোগ বড় ছেলের বিরুদ্ধে
       
Advertisement

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় সম্পত্তির লোভে বাবা মোস্তফা মিয়া (৭০), মা জোসনা আক্তার (৫৫) এবং মেঝ ছেলে আহমদ হোসেন (২৫) কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই পরিবারের বড় ছেলে সাদেক হোসেনের বিরুদ্ধে। যদিও বড় ছেলে ছোট ভাইকে বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে বলে ফোন দিয়ে জানায়। কিন্তু ডাকাতির কথা বিশ্বাস হচ্ছিলো না ছোট ভাইয়ের।

আজ ১৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকালে ঘর থেকে জবাই করা অবস্থায় তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisement

নিহতের ছোট ছেলে আলতাফ হোসেন সিটিজি নিউজকে বলেন, আমার মেঝ ভাই আহমদ হোসেন কে বাবা কিছু সম্পত্তি দেয়। এ জন্য বড় ভাই আমার বাবা এবং মেঝ ভাইয়ের সাথে মাঝে মধ্যে ঝগড়া করতো। এরি মাঝে আমার মেঝ ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হওয়াতে বাবা আমার কাছে এবং বড় ভাইয়ের কাছে টাকা চেয়েছে কিন্তু দিতে রাজি হলেও বড় ভাই রাজি হননি এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। হয়তো এর জের ধরে বড় ভাই আমার বাবা-মা এবং ভাইকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও জানান, আমি বারইয়াহাট মাছের মাছের আড়ৎ এ কাজ করার সুবাদে স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে ভাড়া বাসায় থাকি। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে আমার বড় ভাই সাদেক মুঠোফোনে আমাকে বলে ঘরে ডাকাত ঢুকেছে তাড়াতাড়ি বাড়িতে যেতে আমি তাৎক্ষনিক মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে এসে দেখি আমার বাবা, মা এবং ভাইয়ের লাশ মাটিতে পড়ে আছে এবং বড় ভাই বলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে কিন্তু বড় ভাইয়ের গায়ে কোন ছুরির আঘাত ছিলো না।

মিরসরাই সার্কেল এএসপি লাবিব আবদুল্লাহ জানান, নিহতদের গলায় এবং গায়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা হত্যা হতে পারে। তিনি আরও জানান, তাদের ঘরে ডাকাতির কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কারণ কোন জিনিস নেওয়া হয়েছে এমন আলামত আমরা পাইনি।

এদিকে তাদের বাড়াটিয়া জাকারিয়া জানান, মধ্যরাতে হঠাৎ ঘর থেকে সাদেক চিৎকার দিয়ে বলে আমাদের ঘরে ডাকাত ঢুকেছে। আমরা শুনার সাথে সাথে তাদের ঘরের দরজার সামনে গিয়ে দেখি ভেতর থেকে দরজা তালা মারা। পরে সাদেক মায়ের রুম থেকে চাবি এনে দরজা খুলে দেয়। তখন দেখি তার বাবা এবং ভাইয়ের দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেসময় সাদেক তাদের রক্তের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে কান্না করতে করতে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।

জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয়দ্রুত চাকমা জানান, ভোর ৫টার দিকে জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি তিন জনের জবাই করা দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নিহতদের পিঠে, বুকে, গলায় একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় বড় ছেলে সাদেক হোসেন এবং তার স্ত্রী আইনুর নাহার কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মোস্তফা মিয়া এবং তার ছেলে আহমদ হোসেন জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় নতুন বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসায়ী ছিলেন। তাদের এমন হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচারের দাবী এলাকাবাসীর।

এসসি

Advertisement

CTG NEWS