হাটহাজারী পৌরসভায় নয় বছরে ৪৫কোটি টাকার উন্নয়ন, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা

460
 মো. আবু শাহেদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি। |  বুধবার, অক্টোবর ১৩, ২০২১ |  ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
হাটহাজারী পৌরসভায় নয় বছরে ৪৫কোটি টাকার উন্নয়ন, বেড়েছে নাগরিক সুবিধা
       
Advertisement

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা, ২০১২সালের পহেলা অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। সাত নং সদর ইউনিয়নকে ঘিরে এবং চতুর্পাশের কিছু মৌজা নিয়ে পৌরসভাটির বিস্তৃতি ঘটে। গত নয় বছরে ৩শত ৩৩টি প্রকল্পে ৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান থাকায় বদলে গেছে এর চিত্র। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী নয় বছরে পৌরসভার ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেড়েছে পৌর নাগরিকদের সেবার মান।

পৌর-সদরের জলাবদ্ধতা দূর করতে সরকারি বরাদ্দ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের ৮.৭৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বক্স ড্রেন। এছাড়া ১৫শত এর অধিক সড়কবাতি, ৫টি গণশৌচাগার, সুপেয় পানি সরবরাহে পাইপ লাইন স্থাপন, কয়েকটি উৎপাদকমূলক গভীর নলকূপ, পৌর এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কার ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থায়ী সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধেও জনসচেতনতামূলক কাজ পরিচালনা এবং মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাকালীন কর্মহীন ও দুস্থ পরিবারগুলোকে দেওয়া হয়েছে মানবিক সহায়তা। স্বচ্ছতা-নিশ্চিত করণের জন্য পৌরসভার সকল প্রকার লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করা হচ্ছে। অভিযোগ দাখিলে সহজের জন্য অভিযোগ বাক্স রাখা হয়েছে। আরো নাগরিক সুবিধা সম্বলিত পৌরসভার জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রকার বড় ধরনের সরকারি অনুদান। পৌরসভা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৬শত ৮৮ জনকে বয়স্ক ভাতা, ২শত ৩৫ জনকে বিধবা ভাতা, ৪শত ৬৭ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

Advertisement

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গত নয় বছরে উন্নয়নমূলক কাজে ৪৫ কোটি টাকা ব্যায় করা হয়েছে। ততমধ্যে পৌর- রাজস্ব থেকে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা, এডিপি (সরকারি বরাদ্দ) ৮.২৭ কোটি টাকা, সরকারি বরাদ্দে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের ৮.৭৩ কোটি টাকা, আইইউআইডিপি-২ সরকারি বরাদ্দে ৯.৪৯ কোটি টাকায় ৩শত ৩৩টি প্রকল্প উন্নয়ন করা হয়েছে। এই পৌরসভার কর আদায়ের খাত রয়েছে- আবাসিক (ব্যক্তিগত) হোল্ডিং সংখ্যা ৯ হাজার ২ শত ৮৮টি, আবাসিক (বানিজ্যিক) হোল্ডিং সংখ্যা ২ হাজার ১ শত ৮৪টি এবং সরকারি হোল্ডিং ৪৮টি। যাহার বাৎসরিক আয় (২০২০-২১ অর্থবছর) হয়েছে ৬ কোটি ২৮ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫ শত ৫৮.৬৪ টাকা। চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তার বাজেট ঘোষণা হয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও জনসেবার মান-উন্নয়নে গত নয় বছরে জন্মনিবন্ধন দেওয়া হয়েছে (নতুন, পুরাতন) ৩৮ হাজার ২ শত ৩৩টি। এছাড়া মৃত্যু নিবন্ধন সনদ ১ হাজার ৫ শত ৮৬টি, বিধবা সনদ ২ শত ৫টি, জাতীয়তা সনদ ৩১ হাজার ২ শত ৫টি, ওয়ারিশ সনদ ১৪ হাজার ৪ শত টি দেয়া হয়েছে। বিবিধ সনদ ১ হাজার ৮ শত টি এবং ট্রেড লাইসেন্স ২১ হাজার ২ শত ৫০টি দিয়ে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়।

হাটহাজারী পৌরসভা সচিব বিপ্লব চন্দ্র মহুরী বলেন, সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক দায়িত্বে স্বচ্ছতার চেষ্টা করছি। অফিসে নগদ লেনদেন এড়ানোর জন্য পৌরসভার যাবতীয় লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ ও ওয়ারিশ সনদসহ সরকারের বিভিন্ন কাজে যথেষ্ট সর্তকতা অবলম্বন করে আসছি। পৌরবাসীকে দ্রুত সময়ে নির্ভুল সেবা প্রদানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

হাটহাজারী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ খাঁন বলেন, হাটহাজারী সদর ইউনিয়নের নামকরণ করে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১২সালের পহেলা অক্টোবর থেকে। প্রথম প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান পান্না। এরপর মোয়াজ্জেম হোসাইন, আফসানা বিলকিস, আক্তার-উন-নেছা শিউলি, রুহুল আমিন স্যার বিভিন্ন মেয়াদে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালে পৌরবাসীকে নাগরিক সুবিধা প্রদানে আন্তরিক ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিকে আবর্জনা অপসারণ ও সড়ক বাতিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনায় অবকাঠামো উন্নয়ন (গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নর্দমা নির্মাণ, গণশৌচাগার ইত্যাদি) ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায়-অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে উন্নয়নের গতি আনা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ! বিশেষ করে বাসস্টেশন অংশে যানজট মুক্ত রাখায় দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় অনেকটা সাফল্যে হলেও জনসচেতনতার অভাবে পূর্ণতা পায়নি। পৌর প্রশাসকগনের কঠোর অবস্থানের কারণে অল্প সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ পৌরবাসী সুফল ভোগ করছে। সড়কবাতি সংস্কার ও ময়লা আবর্জনা নিধনে পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনম্যান (কঞ্জারভেন্সি সুপার ভাইজার) মো. মনোয়ার হোসেন ও তার টিম সবসময় প্রস্তুত থাকেন।

পৌরসভার সাবেক প্রশাসক রুহুল আমিন বলেন, ইউএনও’ র দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌর প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬-৮ ঘন্টা। এসময়ে মানুষের সেবা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।একদিকে উচ্ছেদ করেছি, সেই সাথে উচ্ছেদকৃত জায়গায় রাস্তা, ড্রেইন কিংবা কালভার্ট নির্মান করেছি যাতে পূন:দখল না হয়।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর- প্রশাসক শাহিদুল আলম বলেন, উপজেলার পাশাপাশি পৌরসভাকে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পৌর- নাগরিক সেবা, উন্নয়ন অবকাঠামো ও অসচ্ছলদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আরো গুরুত্ব দেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার ছোঁয়ায় আধুনিক পৌরসভার দ্বারপ্রান্তে এখন হাটহাজারী পৌরসভা।

এনইউএস

Advertisement

CTG NEWS