‘বেহাল দশা সেন্টমার্টিন জেটি দ্রুত মেরামতের দাবি’

203
 নিজস্ব প্রতিবেদক: |  শনিবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ |  ৯:২৮ অপরাহ্ণ
       

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপ, হোটেলসহ ভারী স্থাপনা,পলিথিন, আবর্জনা ও গাছপালা কেটে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ-প্রকৃতির প্রতি বিরূপ আচরণ কোন মতেই থামছে না । তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে জেটির মেরামত করে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন শিল্পকে বাচাঁতে সরকারের প্রতি দাবি জানান পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’।   

এদিকে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখন নিয়মিতই সেন্টমার্টিনের ঝুঁকিপূর্ণ একমাত্র জেটিতে হাজারও যাত্রী নিয়ে নিয়মিত জাহাজ ভিড়ছে। এটি ভেঙে যেকোনো মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। জেটিটি ভেঙে গেলে দ্বীপটিতে পর্যটন খাতে জড়িত অন্তত ৫০ হাজার লোকের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে।

Advertisement

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’ জেলা সভাপতি তোফায়েল আহম্মেদ।

তিনি বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন খাতে ৫০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। আর এসব কর্মকাণ্ডের এক মাত্র মাধ্যম হলো সেন্টমার্টিন জেটি। অনেক দিন ধরেই এ জেটিটির কোনো সংস্কার করা হয়নি।’

‘কয়েক বছর ধরে সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রবাল দ্বীপটির জেটির অনেকাংশ ভেঙে পড়েছে।  সর্বশেষ গত ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জেটিটি আরেক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে কারণে অনেকটা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জেটিটি। এতে দ্বীপকে ঘিরে যেসব ব্যবসায়ী দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ করেছেন তারা আজ দিশেহারা বলে জানান তোফায়েল আহম্মেদ।

দ্বীপের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দ্বীপবাসীর একমাত্র আয়ের উৎস পর্যটন। তাই পর্যটনকে পুঁজি করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রচুর বিনিয়োগ রয়েছে। বছরে মাত্র ৫ মাসের ব্যবসার আয়ের টাকায় ১২ মাস চলেন দ্বীপের বাসিন্দারা। জেটিটি দ্রুত সময়ে সংস্কার না করলে বন্ধ হয়ে যাবে আয়ের উৎস। রাজস্ব বঞ্চিত হবে সরকার।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পদক্ষেপ বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার উপদেষ্টা এমএ হাসিব বাদল, এসএম কিবরিয়া খান, সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম তোহা, সহসভাপতি ইফতিকার আহমদ চৌধুরীসহ প্রমুখ।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাহাব উদ্দিন জনি, জামাল উদ্দিন, জনি ভুইয়া, ফোরকান জুয়েল।

এমকে

Advertisement

CTG NEWS