নতুন গাছ লাগাতেই পুরোনো গাছ কাটা

গাছ কেটে সাবাড় সীতাকুণ্ড উপকূল!

169
 হাকিম মোল্লা সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি |  সোমবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১ |  ১২:২৪ অপরাহ্ণ
উপকূল
       

সমূদ্র সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূণিঝড়ের হাত থেকে মানুষের জীবন, সম্পদ রক্ষা করতে প্রথমেই বুক পেতে দেয় উপকূলীয় কেউড়া, গেওয়া উদ্ভিদের সবুজ দেয়াল। আর সেই সবুজ দেয়াল ভেঙ্গে উপকূলের বুক খালি করছে খোদ বন কর্মকর্তারা। এমন ঘটনা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সাগর উপকূলের ভাটেরখীল এলাকার। ভাটেরখীল এলাকায় প্রায় ৫ একর বন ভূমির এক হাজারের অধিক ‘গেওয়া গাছ’ কেটে ফেলা হয়েছে। এ গাছগুলি কয়েক বছর পূর্বে উপকূলীয় বন বিভাগ ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য লাগিয়ে ছিলেন।

তবে সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের দাবি নতুন গাছ লাগাতে ওই গাছগুলো কাটা হচ্ছে। আর ওই এলাকায় মাছের ঘেরের জন্য দখল করা জায়গা ছেড়ে দিতে ইতিমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ভাটেরখীল সাগর উপকূলে গিয়ে কথা বন কর্মচারী আবুল হোসেন আজাদের (পদবী বিএন) সঙ্গে। এসময় তিনি একটি ছাতা মাথায় দিয়ে নতুন রোপনকৃত গাছের চারা পাহারা দিচ্ছিলেন। আর তার কয়েকশ গজ দক্ষিণে উপকূলের সবুজ বনায়নের গাছ কাটছে কয়েকজন যুবক।একই সময় ওই জায়গার উত্তরের দুইটি স্কেভেটর দিয়ে গাছ কেটে মাছের ঘের (প্রজেক্ট) করা হচ্ছে।

Advertisement

এলাকাসীরা জানিয়েছেন বনের জায়গায় মাছের ঘের (প্রজেক্ট) করতে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বনের লাগানো গাছগুলো কাটা হচ্ছে। আর গাছ কাটার পর প্রভাবশালীরা তা দখলে নিবে। ইতিপূর্বে ওই এলাকায় একই কায়দায় কয়েক একর বনের ভূমি দখল করেছে প্রভাবশালীরা।

বিষয়টি জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল হোসেন আরও বলেন, গাছ কাটা ও মাছের ঘের নির্মাণ কারা করছে তা তিনি জানেন না। আর কর্মকর্তারা তাকে বিষয়টি জানায়নি। ওই সব বিষয় রেঞ্জার ও বিট কর্মকর্তারা দেখাশুনা করেন। দেখলেও তা বলার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। নতুনভাবে রোপনকৃত গাছের চারা গরু ছাগল থেকে রক্ষার জন্য তিনি এখানে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানান।

জানা যায়, সেপ্টেম্বরে শুরু থেকে সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে সবুজ বেষ্টনীর আওতায় বন বিভাগের লাগানো প্রায় ৫ একর জায়গায় এক হাজারের অধিক ছোট বড় ‘গেওয়া’ গাছ কেটে ফেলা হয়। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে এই গাছ কাটা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা আবুল কাশেম বলেন, তিনি ত্রিশ হাজার টাকায় গাছগুলো কাটছেন। এক হাজারের অধিক ছোট বড় গাছ কাটা হলেও আরো হাজারের অধিক গাছ কাটা বাকি রয়েছে। স্থানীয় বন কর্মকর্তা সাইফল ইসলাম তাকে গাছগুলো কাটতে বলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ছাবের আহমদ, আলতাফ উদ্দিন বলেন, উপকূলের সবুজ বেষ্টনীর জায়গাগুলো তাদের পূর্ব পুরুষদের। আর এস খতিয়ানে তাদের রেকর্ড আছে। আশি ও নব্বর দশকে বন বিভাগ এখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগায়। আর যেসকল জায়গা খালি ছিল সেখানে কৃষি কাজ করতো তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের মানুষ রক্ষা পেতে বন বিভাগ বনায়ন করেন। কিন্তু সম্প্রতি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বনের গাছ কেটে ওই জায়গাগুলো মাছের ঘের করছে। আবার অনেকে সংরক্ষিত উপকূলীয় বনের জায়গা থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে তা বিক্রি করছে। ফলে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সম্ভবনা রয়েছে।

উপকূলীয় বন বিভাগ চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড রেঞ্জের রেঞ্জার মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নতুন গাছ লাগাতে গেওয়া গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। ওখানে মাউন্ড নামে নতুন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। উপকূলে যদি গেওয়া গাছ গুলো ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে তা হলে পূর্বে বন বিভাগ কেন এই গাছ লাগিয়েছে তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

সহকারী রেঞ্জার খন্দকার আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, যে গাছগুলো কাটা হয়েছে তা সঠিক হয়নি। এতোবড় গাছ কাটার কোন সুযোগ নাই। এটি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। গাছ কাটার সঙ্গে সাইফুল ইসলাম নামে ফরেস্টের বিট কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে সীতাকুণ্ড ভাটেরখীল ফরেস্টের বিট কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের মোবাইলে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

জেইউএস /

Advertisement

CTG NEWS