পাউবো’র উদাসীনতায় সর্তা খালে নিঃস্ব কয়েক’শ পরিবার

205
 ইকবাল হোসেন মনজু -ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) |  শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ |  ৬:২৫ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সর্তা খালের মারাত্মক ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে কয়েক’শ বসতবাড়ি ও শত শত একর কৃষি জমি। এতে ভিটে মাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে হাজার হাজার মানুষ। এখনো হুমকির মুখে রয়েছে আরো কয়েক’শ ঘরবাড়িসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—মসজিদ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ শুধুমাত্র সার্ভেতেই সীমাবদ্ধ পানি উন্নয় বোর্ডের কাজ। তবে পাউবো’র দাবি অর্থবরাদ্দ পেলে দ্রুত খালের ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তারা।

জানা যায়, বাংলাদেশ—ভারত সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকা থেকে উৎপত্তি হয়ে ফটিকছড়ির খিরাম ও ধর্মপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত সর্তা খালের তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে সহায় সম্বল ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শত শত পরিবার। বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা, হচ্ছারঘাট ও ধর্মপুর ইউনিয়নের সমিতিরহাট ও পূর্ব ধর্মপুর এলাকার সর্তার খাল ভাঙনের কবলে বহু পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে চরম উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করে সর্তা পাড়ের মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খিরাম ও ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্বপাশের অধিকাংশ এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে কৃষি জমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় সহ নানা স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে প্রায় চার শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কয়েকশ একর কৃষি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এবং প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সবই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সর্তা খাল এলাকার বাসিন্দা শিরু আক্তার ও মনোয়ারা বেগম বলেন, কয়েক বছর আগে আমাদের পূর্ব পুরুষের বাড়িসহ বসতভিটা খালে হারিয়ে গেছে। এখন অন্যের জায়গায় বসবাস করছি। তাও এখন হুমকির মুখে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী শাহনেওয়াজ নাজিম জানান, এই এলাকায় খালের ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বিগত দিনে অন্তত দুইশ’ বাড়ি খালে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই খাল ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অন্যান্য স্থাপনাগুলোও বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম জানান, পূর্ব ধর্মপুরে কয়েক বছর ধরেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও পানির শ্রোতে আবারও ভেঙে যায়। তবে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাবর আবেদন করেছি। তারা একবার এসে বাঁধ নির্মাণের জন্য সার্ভে করে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ বা খাল ভাঙ্গন ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) চট্টগ্রামের উপ—বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অর্থবরাদ্দ পেলে যত দ্রুত সম্ভব খালের ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসএম

Advertisement

CTG NEWS