বোয়ালখালীতে মুসলিম স্ত্রীর লাশ পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার স্বামী

371
  |  শুক্রবার, আগস্ট ২০, ২০২১ |  ৫:৫০ অপরাহ্ণ
বোয়ালখালীতে মুসলিম স্ত্রীর লাশ পুড়িয়ে ফেলার মামলায় গ্রেফতার স্বামী
       

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মুসলিম স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার এনির(২৪) লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে অভিযুক্ত প্রধান আসামি স্বামী বাবলু দে তনুকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) রাত ১টার দিকে উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা বীণাপানি সংঘ পুজামণ্ডপ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

গ্রেফতার বাবলু দে স্থানীয় হারাধন দে’র বাড়ির অজিত দে প্রকাশ নুনা দে’র ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুমন দে জানান, বাবলু দে শহরের প্রবর্তক মোড়ে একটি সেলুনের দোকানে কাজ করতেন। ঘটনার পর সেখান থেকে সে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। জ্যৈষ্ঠপুরা থেকে পালানোর প্রস্তুতিকালে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত ৩ আগস্ট ইয়াছমিন আকতার এ্যানির মৃত্যুর পর তড়িগড়ি করে তার লাশ হিন্দু রীতিতে পুড়িয়ে ফেলে স্বামী বাবলু দে’র পরিবার। এ্যানির মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা-বাবা বাগেরহাটের মোংলা থানা থেকে এসে মেয়ের লাশ দেখতে চাইলে তাদের লাশ দেখতে দেয়নি বাবলু। এ নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে গত ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের মা রোকসানা আকতার। এতে বাবলুসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ হত্যা মামলায় অন্য আসামিরা হলো -চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারম, রতন চৌধুরী ,সাধন মহাজন (৬০), নিমাই দে (৪৫), শংকর দত্ত (৩৩), অরবিন্দ মহাজন (৫০), অরুন দাশ (৫০), দিলীপ দেব (৪৫), প্রদীপ সুত্রধর (৪০), রাম প্রসাদ (৩৮), রনি দে (৩০), অরুপ মহাজন (৪২), সমর দাশ (৫৫), রবীন্দ্র ধর (৬০), নিপুন সেন (৬০), ইউসুফ প্রকাশ ড্রেজার ইউসুফ (৩৫) ও পবন দাশ (৫৫)।

এ মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পোশাক শ্রমিক ইয়াছমিন আক্তার এনি কাজের সুবিধার্থে নগরী বন্দরটিলা এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে কর্মস্থলে আসা যাওয়ার পথে ওই এলাকায় অবস্থিত একটি সেলুনের কর্মচারী নাম বাবলু দের সাথে পরিচয় হয়। পরে প্রণয় থেকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। বাবলু এবং এ্যানির সংসারে ইশা মনি নামে দেড় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়, হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করে হিন্দু ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য এনির উপর চাপ সৃষ্টি করে বাবলু । কিন্তু এনি রাজি না হওয়া সুকৌশলে ঠান্ডা মাথায় খুন করে বাবলু হিন্দু রীতিতে পুড়িয়ে দেয় লাশ। যাতে কোন রকম প্রমাণ পাওয়া না যায়।

বাদি এনির মা রোকসানা বেগম দাবি করেন, আমার মেয়ে বাবলুর সকল অপকর্ম জেনে যাওয়ায় তাকে প্রায় সময়ই নির্যাতন করত। যা সে তার বান্ধবীদের নিকট জানিয়েছে। সে আমার মেয়েকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণে চেষ্টা চালিয়েছিলো। এনি রাজি না হওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু এবং হিন্দু হিসেবে দাহ করে জ্বালিয়ে দেন।

এজাহার থেকে আরও জানা যায়, হত্যার আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যেই তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কোন মৃত্যু সনদ কিংবা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কেবল স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারম, মেম্বার, চৌকিদারের দোহাই দিয়ে তার মেয়েকে পুড়িয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে বিষয়টি অতিদ্রুত ধামাচাপা দিতে চেয়েছে বাবলুর পরিবার।

বাদির আইনজীবি এএম জিয়া হাবিব আহসান জানান, এনিকে হত্যার অভিযোগ এনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করা হয়। বোয়ালখালী থানার এসিকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোবারক বলেন, আগমী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি যেন নৌকা প্রতীক না পাই এবং রাজনৈতিক ভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা মামলাটি করিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিম বলেন, ‘মামলাটি রহস্যজনক। আলামত পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আসামিকে আজ শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। এতে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে বলে আশা করছি।’

এনইউএস

Advertisement

CTG NEWS