গোপন চ্যাটিংয়ে পিয়াসা-রুবায়েত-মিশুর শুল্কমুক্ত-চোরাই গাড়ির ব্যবসা

এবার শুল্কমুক্ত-চোরাই গাড়ির ব্যবসাতেও রুবায়েত-পিয়াসা!

1590
 নিজস্ব প্রতিবেদক |  বুধবার, আগস্ট ১৮, ২০২১ |  ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
পিয়াসা-রুবায়েত
       
Advertisement

মাদকসেবন ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগের পর এবার শুল্কমুক্ত ও চোরাই গাড়ি বিক্রির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মিশু হাসানের বিরুদ্ধে। আর এদের সহযোগী হিসেবে একই সাথে নাম আসে চট্টগ্রামের রুবায়েত খানের। শুল্ক ফাঁকি ও চোরাই এসব গাড়ি কেনা—বেচার প্লাটফর্ম হিসেবে তারা ব্যবহার করতেন ডার্ক ওয়েব ও ফেসবুকে গোপন চ্যাটিং গ্রুপের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বেশকিছু তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

পিয়াসা, মিশু, রাজ গ্রেফতারের পর ডিবি ও সিআইডির অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৫টি গাড়ি জব্দ করার পর চোরাই ও শুল্কমুক্ত গাড়ি বিক্রির সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নজরে আসে তদন্তকারী সংস্থার কাছে।

Advertisement

অভিযানে ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার কাছ থেকে জব্দ হয় দুটি গাড়ি, যার একটি বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের, নম্বর ঢাকা মেট্রো গ—৩৯—৮৫৭৪ ও অপরটি মাজদা ব্র্যান্ডের, নম্বর ঢাকা মেট্রো গ—৩৪—৫০০৯।

এছাড়াও জব্দকৃত গাড়িরগুলোর মধ্যে লাল রঙের ঢাকা মেট্রো চ—১২—৯১৮০ নম্বরের গাড়িটির মালিক শরিফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান। নজরুল ইসলাম ওরফে রাজের কাছ থেকে জব্দ করা হয় হেরিয়ার ব্র্যান্ডের দুটি গাড়ি । যার নম্বর ঢাকা মেট্রো ঘ—১৫—৬৪০১ ও ঢাকা মেট্রো গ—১৩—৪৬১৭।

সূত্র জানায়, চোরাই পথে আনা ল্যাম্বারগিনিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি বিক্রি করতো এই গ্রুপটি। ফেসবুকে গোপন চ্যাটিং গ্রুপ খুলে সেখানে পোস্ট করার হতো গাড়ির ছবি। এভাবে গাড়ি সম্পর্কে ক্রেতার আকর্ষণ তৈরি করতে ছবিসহ প্রকাশ করা হতো বিস্তারিত তথ্য।

শুল্ক দিয়ে বৈধ পথে ল্যাম্বারগিনি আমদানি করতে হলে একেকটি গাড়ির দাম পড়ে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। কিন্তু এই চক্রটি পুরানো গাড়ি মিথ্যা ঘোষণায় এনে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতো গ্রাহকদের কাছে।

আরও তথ্য আছে—মার্সিডিজ—মেব্যাক মডেলের বিলাসবহুল একটি গাড়ির দাম ৮ কোটি টাকা হলেও পিয়াসা-মিশু সিন্ডিকেট তা বিক্রি করতো ৪ কোটি টাকায় । বিদেশ থেকে একটি গাড়ি ১ কোটি টাকায় কিনলেও প্রতিটি গাড়িতে তারা শুল্ক ফাঁকি দিতেন কমপক্ষে ৭ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে পিয়াসা ও রুবায়েতের মাধ্যমে মিশু হাসান নামীদামি ব্র্যান্ডের শতাধিক গাড়ি বিক্রি করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্সিডিজ, মার্সিডিজ—মেব্যাক, মার্সিডিজ—বেঞ্জ জি ক্লাস, অডি, অডি আর—৮, ল্যাম্বারগিনি, মাজদা, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস—৫৭০ সহ বিভিন্ন মডেলের গাড়ি।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া সিআইডি কর্মকর্তাদের তথ্যানুসারে জানা যায়, মিশু হাসানের ফেরারি ব্র্যান্ডের এফ—৪৩০ সিরিয়ালের ৬ হাজার সিসির গাড়ি জব্দ করা হয় গুলশান ১১১ নম্বর সড়কের অটো মিউজিয়াম থেকে। এই শোরুমটির মালিক বারভিডার সাবেক সভাপতি হাবীবুল্লাহ ডন। গাড়িটি বিক্রির জন্য ওই শোরুমে রাখা হয়েছিল। এ ধরনের উচ্চ সিসির গাড়ি বাংলাদেশে আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় তা বৈধভাবে নিবন্ধনের সুযোগ নেই। অটো মিউজিয়াম থেকে উদ্ধার গাড়িটিতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল, সেটি জাল।

মিশু হাসান ও তার সহযোগীরা কতসংখ্যক গাড়ি মিথ্যা ঘোষণায় এনে বিক্রি করেছেন সেই তথ্য জানার জন্য তদন্ত কর্মকর্তারা শরিফুল হাসান ইতোমধ্যে মিশুর মালিকানাধীন রোডিও ড্রাইভ লিমিডেট সহ কয়েকটি কোম্পানির গাড়ি আমদানি ও বিক্রির নথিপত্র তলব করেছেন। এছাড়া এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত আছে তাও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

এ বিষয়ে কথা বলতে রুবায়েতের খানের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেসব বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। একই সময়ে পিয়াসা ও মিশু কারাগারে থাকায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি এই দুইজনেরও।

আরও পড়ুন

মৌ-পিয়াসা অপকর্মের চট্টগ্রাম সমন্বয়ক রুবায়েত খান

জেইউএস/ এসএম

Advertisement

CTG NEWS