৬ পুলিশ কনস্টেবলের চাঁদাবাজি, শিগগিরই চার্জশিট দিবে পিবিআই 

150
 সিটিজিনিউজ ডেস্ক |  বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১ |  ৩:১৮ অপরাহ্ণ
       

ছয় পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ বিষয়ে শিগগিরই চার্জশিট দেবে তদন্তকারী সংস্থাটি।

চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে আনোয়ারার বৈরাগের নিজ বাড়ি থেকে আবদুল মান্নান নামে এক ঠিকাদারকে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে পুলিশের ৬ জন সদস্য। মান্নান বৈরাগ ইউনিয়নের পূর্ব বৈরাগ গ্রামের শফি তালুকদার বাড়ির মৃত হাজি আবদুল হাকের ছেলে। ওই ঘটনায় আবদুল মান্নান বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে আসামি করে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা দায়ের করেন।

Advertisement

পরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদেরকে গ্রেফতার করে আনোয়ারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক (জেলা) এ.কে.এম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, ‘ছয় কনস্টেবলের ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয়া হবে।’

গ্রেফতারকৃত ছয় কনস্টেবল হলেন, আনোয়ারা উপজেলার শোলকাটা গ্রামের মৃত বাছন আলীর ছেলে আবদুল নবী, পটিয়ার দক্ষিণ গোবিন্দের খিল গ্রামের মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে এসকান্দর হোসেন, আনোয়ারার দক্ষিণ বারশত গ্রামের মোহাম্মদ হাশেমের ছেলে মনিরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ডে পুর্ব বাটেরখীল গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে শাকিল খান, আনোয়ারার চাতুরী গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মোহাম্মদ মাসুদ ও মিরসরাই ফরপরিয়া গ্রামের সিরাজুল মোস্তফার ছেলে মোর্শেদ বিল্লাহ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মান্নান একজন পেশাদার ঠিকাদার। ঘটনার দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে আনুমানিক দুইটার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে এবং মান্নানের নাম ধরে ডেকে ঘর থেকে বের হতে বলে। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই দুই ব্যক্তি নিজেদের গোয়েন্দা সদস্য পরিচয় দিয়ে মান্নানকে ধরে বাসা থেকে আনুমানিক দুইশো ফুট দূরে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা চারটি মোটরসাইকেলের একটিতে উঠিয়ে মান্নানকে আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী বাজার হয়ে পটিয়া ভেল্লাপাড়া ব্রিজের পূর্ব পাশে কৈয়গ্রাম রাস্তার মাথার ভেতরে একটি টং চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যায়। চার মোটর সাইকেলে দুইজন করে আটজন ছিলো। টং দোকানে বসিয়ে মান্নানকে তারা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাবার ভয় দেখিয়ে প্রথমে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনা কাউকে জানালে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে দর কষাকষি করে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে মান্নানকে ছেড়ে দিতে রাজি হয় তারা। ভোর আনুমানিক চারটায় বাড়িতে ফোন করে স্বজনদের মাধ্যমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা এনে ডিবি পরিচয়ধারী আট যুবকের হাতে দিয়ে মুক্তি পান মান্নান।

পিএম

 

 

Advertisement

CTG NEWS