৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যেতে প্রস্তুত শত শত ট্রলার

69
  |  বুধবার, জুলাই ২১, ২০২১ |  ১:৪১ অপরাহ্ণ
৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে যেতে প্রস্তুত শত শত ট্রলার
       

বঙ্গোপসাগর ও নদী মোহনায় মাছ ধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ জুলাই। আবারো ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

৬৫ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা কারণে কক্সবাজারের প্রায় সকল মাছ ধরার নৌকা বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও ঘাটে নোঙর করে আছে। ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্যে গত তিনবছর ধরে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।

Advertisement

এদিকে এর কারণে লক্ষাধিক জেলে পরিবার অভাব ও কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কক্সবাজার ফিশারীঘাটস্থ শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এবং বরফকলগুলোও ২ মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কয়েক হাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।

মাছ ধরা বন্ধ থাকায় শহরের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো নির্জন হয়ে আছে বলে ফিশারীঘাটস্থ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী জানান। কয়েকজন জেলে জানান, সরকারি সাহায্য অপ্রতুল হওয়ায় দুঃখ-কষ্টে কেটেছে তাদের দিন।

দরিয়ানগরের জেলে ছলিম ও শফি আলম জানান, তালিকার বাইরে থাকা কয়েক হাজার জেলে সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রজননকাল উপলক্ষ্যে বঙ্গোপসাগর ও নদী মোহনায় মাছ ধরার উপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৩ জুলাই শেষ হচ্ছে। এই সময়ে দেশের সামুদ্রিক জলসীমানায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহণ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছের প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জেলার ৬৩ হাজার ১৯৩ জন জেলের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী জেলার আট উপজেলায় তা বিতরণ করা হয়।

সাগরে মাছের প্রাচুর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২০১৯ সাল থেকে প্রথমবারের মতো ছোট নৌকাগুলোকেও ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিয়ে আসে। এরআগে ২০১৫ সাল থেকে কেবল বড় বড় বাণিজ্যিক ট্রলারগুলোর জন্যই এ নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তবে ইলিশের প্রজননকাল উপলক্ষ্যে ছোট ট্রলারগুলোকে ২০১১ সাল থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়, যেটি অক্টোবর মাসে এখনও কার্যকর রয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের কক্সবাজারস্থ সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, প্রজননকালে বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পেলে এর সুফল জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা পাবে। ফলে নিষেধাজ্ঞার কারণে সাময়িকভাবে কিছু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে তা পুষিয়ে যাবে।

এন-কে

Advertisement