দাঁত চেকআপের নামে শ্লীলতাহানি: ভিডিও ভাইরাল

1527
 মো. আবু শাহেদ, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি |  সোমবার, জুলাই ১৯, ২০২১ |  ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
হাটহাজারীতে ডেন্টিস্টের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ: ভিডিও ভাইরাল
       

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিধান কান্তি দে নামে এক ডেন্টিস্টের বিরদ্ধে কলেজ শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। আজ ১৯ জুলাই, সোমবার দুপুরে হাটহাজারী থানার বি ডেন্টাল কেয়ার নামে ঐ ডেন্টিস দাঁত চেকআপের সময় শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, দাঁতের সমস্যা নিয়ে সোমবার দুপুরে ডেন্টিস্ট বিধান রায়ের চেম্বারে যান তিনি। তাঁর দাঁতের চেকআপের এক পর্যায়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বিধান। শিক্ষার্থী তাকে বাঁধা দিলে তিনি বলেন, দাঁত ও মাড়ির যে সমস্যা তার চেকআপের জন্য শরীরের সব জায়গায় দেখতে হয়। পরে ভুক্তভোগী জোরপূর্বক ডেন্টিস্টের ফি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ে।

Advertisement

এদিকে বিষয়টি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওর এক পর্যায়ে লম্পট ডেন্টিস্ট বিধান রায় প্রথমে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও পরে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আর করবে না মর্মে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমা চান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছে থানায় অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আত্মসম্মান বোধে থানায় অভিযোগ করবেন না। তবে তিনি বলেন, মিডিয়াতে বিষয়টি এনেছি এ জন্য যাতে কোনো মহিলা আর তার শ্লীলতাহানির শিকার না হোন।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে হাটহাজারী মডেল থানার দক্ষিণ পূর্বে আলী মার্কেটে এ ব্যবসা করে আসছেন ডেন্টিস্ট বিধান। কিন্তু এমবিবিএস কিংবা বিডিএস না হয়েও নামের আগের ডাঃ লিখে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন তিনি। রোগীদের দেয়া ব্যবস্থাপত্রে তার সত্যতা পেয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে দোষ স্বীকার করে তিনি বলেন, আমি ভুল করেছি। মেয়েটির কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ মোঃ ইমতিয়াজ হোসাইন বলেন, এমবিবিএস কিংবা বিডিএস না হলে ডাঃ লিখতে পারবেন না। তারা ডেন্টিস্ট লিখতে পারবেন। এ ধরনের কেউ ডাঃ লিখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহিদুল আলম বলেন, বিষয়টা শুনেছি। এটা শ্লীলতাহানি। এখন বিষয়টা ভিকটিমের ওপর নির্ভর করছে। উনি চাইলে বিষয়টা চেপে যেতে পারেন, চাইলে থানায় অভিযোগ করতে পারেন। নামের আগে ডাঃ লিখার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেএন

Advertisement