বিশ্বাসী ঋণে বিধিনিষেধে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা!

324
 মোস্তফা কামাল |  মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১ |  ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
       

লোন এগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট (এলটিআর) বা বিশ্বাসী ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই আদেশের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ৯০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামালে ১৮০ দিনের বেশি মেয়াদে ঋণ পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তে আমদানি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ।

গত ১৩ জুন, রোববার এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী-কোনো কারণে গ্রাহক নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে এক দফার বেশি মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে এই ঋণের নাম পরিবর্তন করে ‘আমদানি—পরবর্তী অর্থায়ন’ বা ‘পোস্ট ইম্পোর্ট ফিন্যান্সিং’ (পিআইএফ) নামে চিহ্নিত করার নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স’র সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম সিটিজি নিউজকে বলেন, এই নীতিমালা ব্যবসায়ীদের জন্য দুঃখজনক কারণ সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় আমদানিকৃত ভোগপণ্য নিয়ে বিদেশ থেকে কোন জাহাজ আসতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় লেগে যায়। এছাড়া এলসি করে বন্দরে জাহাজ আসতে সময় লাগে ক্ষেত্রভেদে ৪৫ থেকে ৬০ দিন এবং খালাসের জন্য ৬০ থেকে ৭৫ দিন। তাই বিভিন্ন সময় জাহাজ জট, লাইটার জাহাজের স্বল্পতা, বৈরী আবহাওয়া, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের কর্মবিরতিসহ নানা কারণে পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময় লাগে। সহজ হিসাবে আমদানি করা ভোগপণ্যের ক্যাশ কনভারশন সাইকেল সাধারণত ২০০ থেকে ২৪০ দিন হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে এক জন ব্যবসায়ী কখন আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবে? কারণ এই অল্প সময়ের মধ্যে আমদানিকৃত ভোগপণ্য বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করা কোনভাবে সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

এলটিআর বা পিআইএফের ঋণের অপব্যবহার কিংবা অর্থ বিদেশে পাচার রোধের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই কঠোর নীতিমালা করেছে কি না এমন প্রশ্ন উত্তরে তিনি বলেন, এর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাছাইসহ ব্যাংক ক্লাসিপাইট করতে পারে। এছাড়া শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে মর্টগেজ প্রপার্টিজ সুনিশ্চিত করতে পারে ব্যাংক।

চেম্বার সভাপতি বলেন, এই নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ছোট বড় সকল ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমদানি রপ্তানিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে। এতে রুগ্ন ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে পারবে না। তাই এই নীতিমালা শিথিল করতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স থেকে অর্থ মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পিআইএফ-র প্রজ্ঞাপন বাতিলের অনুরোধ চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতির

চট্টগ্রাম চাল সমিতির সভাপতি ওমর আজম সিটিজি নিউজকে বলেন, এলটিআর হচ্ছে ব্যাংক এবং গ্রাহকের সম্পর্ক, এ বিষয়ে যদি সরকার কড়াকড়ি আরোপ করলে শিল্পপতি ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবে অপরদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ।

তবে বিদেশ থেকে আসা পণ্যের কোয়ান্টিটি বেশি হলে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ক্ষতি হবে ব্যবসায়ীদের কারণ তারা এত বেশি টাকা একসাথে ইনভেস্ট করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু তা নয় এ বিধিনিষেধ আরোপের কারণে দেখা যাবে মার্কেটে কোন একটা পণ্যের দাম হঠাৎ করে কমে যাচ্ছে আবার হঠাৎ করে অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের অনেক কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে ।

বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী সিটিজি নিউজকে বলেন, দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে বিশ্বাসী ঋণ প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট খাতে পুনঃ অর্থায়ন স্কিম, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ ব্যবসায়ীদের জন্য পুনঃ অর্থায়ন অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিলো। কিন্তু হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক এলটিআর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

এসএম

Advertisement