রাজনৈতিক সুবিধা নিতে ব্র্যান্ড হাবিবের কাণ্ড!

722
 জালালউদ্দিন সাগর |  মঙ্গলবার, জুন ২২, ২০২১ |  ৭:২৩ অপরাহ্ণ
হাবিব খান
       

হাবিব খান ফেসবুকে ওয়ালে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে আবুল হাসনাত ওরফে কথিত হাবিব খানের অজস্র ছবি দেখা গেলেও রাজাকার বাবা আব্দুল হান্নানের সাথে তার কোনো ছবি নেই। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে বাবাকে কৌশলে আড়াল করেছে সে। আর নিজের কৌশলে সফল হয়ে ইতোমধ্যে নিজেকে আওয়ামী ঘরনার পরিচিতি দাঁড় করিয়ে হয়েছেন প্রভাবশালী নেতার পিএস। তবে বাবার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি না থাকার বিষয়ে হাবিব খানের বক্তব্য ধর্মভীরুতা ও রক্ষণশীলতার অজুহাত।

হাবিব খানের ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়াল ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন অ্যালবামসহ ওয়ালে প্রায় ৭ শতাধিক ছবি রয়েছে। এসব ছবির মধ্যে রয়েছে মিরসরাইয়ের একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর সাথে তোলা ছবি। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদেরসহ জাতীয় রাজনীতির বেশ কয়েকজন নেতার ছবি আপলোড দিয়েছেন ফেসবুকে। রয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তির সাথে তোলা ছবিও। তবে কোনো ছবি নেই বাবার সাথে। বাবা আব্দুল হান্নান মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী হওয়ায় কৌশলে ‘আড়াল’ করা হয়েছে তাকে। শুধু বাবাকে আড়াল করাই নয়-বাবার দেওয়া নামটি পাল্টিয়ে আবুল হাসনাত থেকে রাতারাতি বনে যান হাবিব খান। পরিচয় বদলিয়ে মিশে যান স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সাথে। তবে গণমাধ্যমকে হাবিব খান জানান, আমি নামও কখনো পাল্টাই নাই। আমি ২০০৯/১০ সালের দিকে Habib khan নামে ফেসবুক আইডি খুলি, যার ব্র্যাকেটে (Abul Hasnat) লেখা ছিল, Habib khan আমার ব্র্যান্ড নেম।

Advertisement

রাজাকার পরিবারের উত্তরসূরি হয়েও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কথিত হাবিবের বিচরণ স্থানীয়ভাবে সমালোচিত হলেও প্রকাশ্যে কথা ভয় পান স্থানীয়রা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বীর মুক্তিযুদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের রাজনৈতিক মাঠে রাজাকার পুত্রের অবাধ বিচরণ মিরসরাইযের রাজনীতিকে কুলসিত করবে।

হাবিব খান ফেইসবুকে সব চাইতে বেশি ছবি আপলোড দিয়েছেন স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং তার পুত্র মিরসরাই রাজনীতির ভবিষ্যত কাণ্ডারী মাহবুবুর রহমান রুহেলের। মাহবুবুর রহমান রুহেলে ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে ফেসবুকে এসব ছবি আডলোড করেছেন তিনি। তবে প্রায় ৭শ ছবির মধ্যে বাবা আব্দুল হান্নানের সাথে একটি ছবিও নেই তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বাবাকে আড়াল করা কেন জানতে চাইলে হাবিব খান বলেন, শুধু বাবা না, মায়ের সাথেও আমার কোনো ছবি নেই। তারা একটু ওল্ড ও পর্দানশীল সে কারণে দেওয়া হয়না।

তবে প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার পর নিজের ফেসবুকে ওয়ালে পোস্ট করা বেশকিছু ছবি মুছে দেন হাবিব খান।

কথিত হাবিব খানের বাবা আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করার অভিযোগ তুলেছেন ১৩ নম্বার মায়ানী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। শুধু তাই নয় রাজাকার তালিকায় আব্দুল হান্নানের নামও প্রস্তাব করেছেন তারা। একই সাথে মায়ানী ইউনিয়েনের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আমিনুজ্জামান সংসদের প্যাডে আব্দুল হান্নানকে রাজাকার হিসেবে অবহিত করে বিবৃতিও দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে আব্দুল হান্নান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত রাজাকার ।

আব্দুল হান্নানের পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অভিযুক্ত হান্নান পাকহানাদার বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি-ঘর চিনিয়ে দিতে সহায়তা করতেন। পরে তার দেখানো ঘর-বাড়িগুলো পাকবাহিনী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতো।

একইভাবে আব্দুল হান্নানকে রাজাকার বলে দাবি করেছেন ৭ নং ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, উনি দেশ বিরোধী ছিলেন বলেই রাজাকারের তালিকায় তার নাম এসেছে। তাদের পরিবারের আরও একজন স্বাধীনতা বিরোধী লোক আছেন তার নাম কাজল। তিনি সার্ভেয়ারের কাজ করেন। সম্পর্কে সে আব্দুল হান্নানের ভাতিজা ।

৪ নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর ভূইয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকেই তো বিরোধীতা করেছেন, তিনিও ( আব্দুল হান্নান) করতে পারেন। করাটা অস্বাভাবিক না। তবে এ ব্যাপারে আমার চেয়ে স্থানীয় মায়ানী ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধরাই ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমান রুহেল বলেন, হাবিব খান শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলো না। তবে ওর ফাদারের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আমি সিউর না। এটা এখনো আমরা ইনভেস্টিগেশন করছি। কিছু লোক বলছে আগের যে তালিকা করা হয়েছে সেখানে ছিলো না, কিন্তু নতুন করে যে তালিকা হয়েছে সেখানে আছে।

তিনি আরও বলেন, যিনি এই তালিকায় স্বাক্ষর করেছেন তিনি বলছেন জোর করে তালিকায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কে সাইন নিয়েছে, তিনি বললেন, আমি জানি না।

এসএম

Advertisement