এছহাক ব্রাদার্সের অবৈধ পার্কিংয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা-মৃত্যু

382
 নেজাম উদ্দিন সোহন |  সোমবার, জুন ২১, ২০২১ |  ৭:২৭ অপরাহ্ণ
ইছহাক ডিপো
       

ইছহাক ডিপো রেলওয়ের জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে পার্কিংয়ের নামে পরিধি বাড়িয়ে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছে বেসরকারি কনটেইনার ইয়ার্ড এছহাক ব্রাদার্স লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানমুখি গাড়ির চাপ ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে পোর্ট লিংক রোডের টোল প্লাজা সড়কের দু’পাশে সংকুচিত হয়ে যানজটের পাশাপাশি প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। ডিপোটির পার্কিংয়ে দখলে থাকা সাড়ে তিন একর রেলওয়ের জায়গা এছহাক ব্রাদার্স লিমিটেড লিজ নিয়েছে  দাবি করলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে কোনো টেন্ডার হয়নি। তাদের অভিযোগ—অবৈধ দখল করে আছে এছহাক ডিপো।

অভিযোগ রয়েছে, বাইপাস টোলপ্লাজা সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসা যাওয়ায় নিয়োজিত পরিবহনগুলোর ব্যবহার করার কথা থাকলেও হচ্ছে উল্টো। মূলত এখন ওই সড়কটি ব্যবহার হচ্ছে এছহাক ডিপোর শত শত পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, লরি, পণ্য লোড—আনলোড ট্রেইলার ও ট্রাক পাকিংয়ে। ডিপোতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও সড়কের দু’পাশে পরিবহনের দীর্ঘ লাইনের কারণে যানজট লেগে থাকে। এতে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে তেমনি দুর্ঘটনায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

Advertisement

তথ্যমতে, গতকাল (২০ জুন) রোববার টোল রোডে ট্রাকের সাথে লরির সংঘর্ষে লরির হেলপার মো. আরিফ নিহত হন। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল এছহাক ডিপোর সামনে লরির ধাক্কায় ইফতেখারুল আলম নামের মোটরসাইকেল চালক ও ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর এছহাক ডিপো টোলপ্লাজার সামনে নিহত হন মো. হাবিব নামের দুই যুবক। গত ২০১৯ সালে ১৭ অক্টোবর দায়িত্বরত অবস্থায় বন্দর টোল রোডে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় পুলিশ সার্জেন্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বকশি নিহত হন। একই বছর ২৭ জুলাই ওই এলাকায় মো. ইফতেখার নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও ২০১৮ সালের ১ মার্চ বাইপাস টোল রোডে রাতে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠের পুত্র উমায়ের আলম শেঠের বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মো. মানিক (২৫) নামের ভ্যান চালক নিহত হন। ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর পুরানো টোল রোডে পাশে পোর্ট মার্কেটের এছহাক ডিপো সংলগ্ন এলাকায় টমটমের ধাক্কায় বেসরকারি ঘাসফুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিইসি পরীক্ষার্থী সুমনা আকতার (১১) নিহত হন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্দর পোর্ট সংলগ্ন এছহাক ব্রাদার্স ইয়ার্ডে ঢুকতে হাতের বামপাশে রেলওয়ের ৩ একরেরও অধিক জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পার্কিং। ঢুকতেই হাতের বামপাশে রেলক্রসিং ঘেঁষে নামবিহীন ২টি ট্রেইলার ও কাভার্ডভ্যানে কাজ করছেন মিস্ত্রিরা। বাইপাসের দু’পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে এছহাক ডিপোর সারিসারি কাভার্ডভ্যান।

স্থানীয়রা জানান, এছহাক ডিপো রেলওয়ের ভূমি দখল ও নিয়ম ভঙ্গ করে ভারী যানবাহনের অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সড়কটিতে যানজট লেগেই থাকে। এতে সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘টোল রোডে যানজটের অন্যতম কারণ হলো এছহাক ব্রাদার্স ডিপোর অতিরিক্ত গাড়ির চাপ। সড়কের দু’পাশে যত্রতত্র পার্কিং ও বন্দরে প্রবেশমুখি গাড়িগুলো একসঙ্গে আসায় মূলত এই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়।

এছাড়া সড়কে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করার কারণে এলাকার কিছু চাঁদাবাজ এসব গাড়িগুলোর কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদা না দিলে বাইপাস সড়কে প্রায়ই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এছহাক ব্রাদার্স লিমিটেডের ম্যানেজার (এডমিন অ্যান্ড এইচআর) মোহাম্মদ মূসা বলেন, ‘টোলপ্লাজা সড়কের বাইপাস রোডে পার্কিং করা সব পরিবহনগুলো ডিপোর না। এগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পরিবহন।

রেলের জায়গা দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে পাশ কাটিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপোর পাশে আমাদের গাড়ির পার্কিংয়ের জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ে কাছ থেকে টেন্ডার নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ—সম্পত্তি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: আহসান জাবির বলেন, এছহাক ডিপোর পার্কিং করে দখলে রাখা জায়গাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তি। আমার জানামতে এছহাক ডিপো জায়গাটির জন্য টেন্ডার জমা করেছিল কিন্তু তা টেন্ডার হয়নি। রেলওয়ের ওই জায়গাটি এছহাক ডিপো অবৈধভাবে দখল করে পার্কিং বাণিজ্য করছে বলেও জানান তিনি।

যানজটের বিষয়ে সিএমপির উপ—পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক বন্দর) সাহেদা সোলতানা বলেন, সড়কটিতে বন্দর প্রবেশমুখি ও ডিপোর গাড়িতে প্রায় চাপ থাকে। আমরা চেষ্টা করি সড়কটি চলাচলের উপযোগী রাখতে। বাইপাস সড়কের উভয় পাশের অবৈধ পাকিংগুলো উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেইউএস/ এসএম

Advertisement