৭৫ কোটি টাকার জায়গা অন্যের দখলে তবুও দায়সারা চসিক!

389
 নেজাম উদ্দিন সোহান |  বুধবার, জুন ১৬, ২০২১ |  ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
       

৭৫ কোটি টাকার জায়গা বেদখল থাকলেও মাথা ব্যাথা নেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। দীর্ঘ ২৫ বছর বেদখল থাকার পর ২০১৯ সালের ২৫ জুন অভিযান চালিয়ে জায়গাটিকে দখলমুক্ত করা হলেও স্থায়ী কোনো স্থাপনা তৈরি না করায় বছর ঘুরতেই পুনরায় দখলে নেন স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা। কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলায় গত দুই বছর ধরে নগরীর বন্দর থানা এলাকার পোর্ট কানেকটিং রোডের পাশে নিমতলায় প্রায় ১০০ শতক জায়গা দখল করে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা করছে কাঠ ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ভূমি উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি চসিক। তবে চসিক বলছে, আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ ও বিশাল বাজেটের প্রয়োজন বিধায় দখলকৃত জায়গায় স্থায়ী কোনো স্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ জুন চসিকের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আকতার অভিযান চালান নগরীর নিমতলা পোর্ট কানেকটিং রোড এলাকায়। ওই অভিযানে দীর্ঘদিন কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকা আনুমানিক ৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০০ শতক জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। উচ্ছেদ করা হয় কাঠের দোকান, কাঁচা-পাকা ভাড়াঘর। ওই দিনই সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে উদ্ধারকৃত জায়গায় আয়বর্ধক প্রকল্প করার ঘোষণা দেয় চসিক। পরে জায়গাটিতে কাঁটা তার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, ২৫ বছর আগে সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে চসিকের কাছে জায়গাটি হস্তান্তর করা হয় । দীর্ঘদিন তা দখলবাজদের দখলে থাকলে আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র থাকাকালে পোর্ট কানেকটিং রোড নিমতলার এসব অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে দখলদারদেরকে চসিকের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও দখলদাররা তাদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় চসিক গত ২০১৯ সালের ২৫ জুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদেরকে উচ্ছেদ করে ।

গত সোমবার (১৪ জুন,২০২১) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উদ্ধারের পর জায়গাটিতে চসিকের দেয়া কাঁটা তারের বেষ্টনী নেই। চসিকের টাঙানো সাইনবোর্ডে ‘অনাধিকার প্রবেশে শতর্কবাণী’ লেখা থাকলেও পুরোটাই দখলে নিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে দখলকৃত জায়গায় নতুন করে কয়েকটি দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন কাঠ ব্যবসায়ীরা।

জায়গাটি উদ্ধার করে চতুর্দিকে কাঁটা তারের বেড়া দেয়া হয়েছিলো জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী সিটিজি নিউজকে বলেন, আমাদের উচিৎ ছিল জায়গাটিতে চসিকের নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে দখল বলবৎ রাখা কিন্তু তা না হওয়ায় জায়গাটি পুনরায় বেদখল হয়ে যায়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চসিকের আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। এটি পাশ করতেও অনেক সময় লেগে যায়। তাই জায়গাটিতে চসিক আয়বর্ধক প্রকল্প করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো হয়ে উঠেনি।

একই কথা বলেছেন চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি সিটিজি নিউজকে বলেন, পোর্ট কানেকটিং রোডের নিমতলার জায়গাটি বেদখলের বিষয়ে অবগত আছি। চসিকের পরিকল্পনা ছিলো উক্ত জায়গাটিতে আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। কিন্তু আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশাল বাজেটের প্রয়োজন বিধায় এতোদিনও হয়ে ওঠেনি। তবে দখলদারদের উচ্ছেদ করে জায়গাটি আবারও দখলমুক্ত করার কথা জানান এ নগর পিতা।

জেইউএস/এসএম

Advertisement