চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিকল্প সড়কে ছোট-বড় গর্তে দুর্ভোগ বাড়ছেই

344
 মোস্তফা কামাল |  বুধবার, জুন ১৬, ২০২১ |  ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
       

চট্টগ্রাম কক্সবাজারের বিকল্প একমাত্র প্রধান সড়ক পটিয়া ক্রসিং-পেকুয়া। এ সড়কে চার লেনে উন্নীতকরণ নিমার্ণকাজ ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বর্ষা মৌসুমে অতি বর্ষণে শিকলবাহা (ওয়াই জংশন) থেকে আনোয়ারা চৌমুনী এলাকা জুড়ে রাস্তার দু পাশ ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন এসব গর্তে আটকা পড়ছে যানবাহন। সড়কের এই এলাকাজুড়ে দু’পাশে কাচাঁ মাটিতে একটু পর পর বড় বড় গর্ত। দুটি গাড়ি চলাচল করতে পারে না। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীবাহি যানবাহনসহ পায়ে হেঁটে চলা সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, কবে লাঘব হবে এই দুর্ভোগ?

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বর্ষা মৌসুম আসার আগে সড়ক সংস্কার না করা, সড়কের নকশায় যতটা ভারী বাহনের ক্ষমতা রয়েছে, এর চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল, সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ির কারণেই সড়ক প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে। প্রতিবৎসর বর্ষার সময় সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল করার সময় গর্তে ময়লা পানি জমে থাকে। মাঝে-মধ্যে গাড়ি উল্টে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ সড়কে যানজট লেগে যায়।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি ছাড়াই নোংরা পানিতে সয়লাব হয়ে আছে ফকিরনিরহাট, বাদামতল ও চৌমুনী বাজার এলাকা। সড়কের বড় গর্তে যানবাহন পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকার লোকজন বাঁশে লাল কাপড় বেঁধে এবং জলদী বড় মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশে কচুগাছ লাগিয়ে গর্ত চিহ্নিত করেছেন। এ চিত্র বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া থেকে চাম্বল বাজার পর্যন্ত অনেক জায়গায়। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ এই উপজেলার লাখ লাখ জনগণের। সড়ক দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন তারা ।

কর্ণফুলী থেকে বাঁশখালী ও পেকুয়া সড়কের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকাজুড়ে সকাল বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় ছোট বড় সব ধরনের পরিবহনগুলোকে। সড়কটি চার লেইন করার জন্য রাস্তার দু পাশের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে বৃষ্টি আসার সাথে সাথে রাস্তার দু পাশের মাটি নরম হওয়ার কারণে গাড়ি চলাচলের সময় মাটি দেবে যাচ্ছে। সরু এই সড়ক দিয়ে চায়না প্রজেক্ট, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট, তৈরী পোশাক কারখানা ইয়ংওয়ান, সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএল এবং বঙ্গবন্ধু টানেলের মালামালের জন্য ট্রাক, লরি ও ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়কটি। এছাড়া এস আলম যাত্রীবাহি পরিবহন গাড়িগুলো রাস্তায় চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা নিবার্হী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ সিটিজি নিউজকে বলেন, এ সড়কে তীব্র যানজট হ্রাসের জন্য হাইওয়ে পুলিশ কাজ করবে তাই উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে কোনো কিছু করার নেই। এছাড়া সড়ক উন্নীতকরণ, মেরামত করার দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তাই তারা এ বিষয় দেখভাল করবে।

চট্টগ্রাম দোহাজারী (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ সিটিজি নিউজকে বলেন, এ সড়কটির চার লেন উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বৃষ্টি আসার সাথে সাথে কাঁচা মাটি নরম হয়ে গেছে এবং রাস্তার দু’পাশে গর্ত তৈরি হয়েছে। তাই রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। ফকিরনীর হাট রাস্তা মোড়, চৌমুহনী রাস্তার মোড়ে অসংখ্য গর্ত সৃষ্টির কারণে গাড়ি আস্তে আস্তে চালাতে হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সড়ক উন্নীতকরণের জন্য রাস্তার দু’পাশে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর এই সড়কের কাজ শেষ হবে। তবে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গত ১০ থেকে ১২ দিন কাজ বন্ধ রয়েছে ।
উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকলে সড়কে যানজট তৈরি হয় উল্লেখ করে সুমন সিংহ বলেন, সড়কে উন্নয়ন কাজ চললে পরিবহনগুলো আস্তে ধীরে চলে। এতে একটির পর একটি গাড়ি জমায়েত হয় এতে যানজট তৈরি হয়। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানার অফিস শুরু ও বিকালে ছুটির সময় তাদের পরিবহনগুলো রাস্তা চাপ সৃষ্টি করে থাকে।

এই দুর্ভোগ কখন লাঘব হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আশা করি নিধার্রিত সময়ের মধ্যে এই কাজ সমাপ্ত হবে। জনগণ এর সুফল পাবে। চট্টগ্রাম নগরীতে সড়কের উপর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার তৈরি করার সময়ও সাধারণ জনগণ দুভোর্গে পড়েছিলো। কিন্তু এখন এই ফ্লাইওভার দিয়ে গাড়ি চলাচল করায় নগরবাসী তার সুফল ভোগ করছে। যে কোনো সড়কে উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে।

কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চোধুরী সিটিজি নিউজকে বলেন, শিকলবাহা (ওয়াই জংশন)- আনোয়ারা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক। এছাড়া পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী সড়কের পাশে কর্ণফুলী টানেলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি। এই সড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামে সড়ক যোগাযোগের দ্রুত মাধ্যম। তাই গাড়ির চাপ সর্বদা লেগে থাকে। এই চাপ সমাধানের জন্য সরকার সড়কটি চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সড়কের সম্প্রসারণের দু মাসের মাথায় বৃষ্টি আসার কারণে রাস্তার পাশের কাচাঁ অংশে গর্ত তৈরি হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, দুই মাস আগে জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় এই সড়ক উন্নীতকরণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জনসাধারণ যাতে দুর্ভোগে না পড়ে তার জন্য ব্যবস্থা নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ৪০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শিকলবাহা (ওয়াই জংশন) থেকে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এবং আনোয়ারা সদর উপজেলা থেকে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটারসহ মোট সাড়ে ১১ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

কেএন

Advertisement