সরকারি ফি ১৫০ টাকা হলেও বুড়িশ্চর ইউপি নেয় ৫০০!

388
 ফরহাদ মাহমুদ |  বৃহস্পতিবার, জুন ১০, ২০২১ |  ৮:৩১ অপরাহ্ণ
       

জন্মসনদ সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাটহাজারী উপজেলার ১৫ নং বুড়িশ্চর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে— সংশোধনীতে নাম ও সালের জন্য ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে চেয়ারম্যানের দাবি অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান চেয়ারম্যান ।

সরেজমিনে বুড়িশ্চর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, জন্মসনদ সংশোধনের জন্য আসা জনসাধারণ থেকে বিশাল কাজের অজুহাত দেখিয়ে একেকজনের কাছ থেকে একেকরকম ফি আদায় করছে দায়িত্বে থাকা নাসরিন নামের এক কর্মচারী(মহল্লাদার)। প্রতিবেদক নিজের এক আত্মীয়ের জন্মসাল ও নাম সংশোধনীর প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাম সংশোধনের জন্য আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি যেমন, বর্তমান জন্মনিবন্ধনের মূলকপি ও মা বাবার জন্মনিবন্ধনের কপিসহ ফি বাবদ ২৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ—সরকারের নিধার্রিত ফি এর তোয়াক্কা না করে ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে সনদ প্রতি ২৫০ থেকে ৫০০ আদায় করছে ইউনিয়নের কর্মচারী নাসরিন।

Advertisement

এনআইডি কার্ড তৈরি, ব্যাংক একাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরিসহ সম্প্রতি সরকার ঘোষিত ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি ও প্রোফাইল তৈরিতে জন্মসনদের প্রয়োজন হয়। এমন একটি প্রয়োজনীয় সনদ নিতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন উক্ত ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

হয়রানির শিকার বুড়িশ্চরের বাসিন্দা জোবায়ের সানি বলেন, আমার বড় বোনের পরিবারের ৪ জনের জন্মনিবন্ধনের নাম ও জন্ম তারিখ ভুল থাকায় ঠিক করতে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারী নাসরিন জানায় প্রতিটি জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য ৫০০ টাকা দিতে হবে। বেশি টাকা বলায় আমার বোন আর সংশোধনের জন্য আবেদন করেননি।

কারো কারো কাছ থেকে জন্ম নিবন্ধনের সাল সংশোধনের জন্য আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনই একজন ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইনান। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন আগে জন্ম নিবন্ধনের সাল সংশোধন করতে চাইলে কম্পিউটার অপারেটর ও ইউপি সদস্য বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেন। পরে আমি জানতে পারি আমার কাছ থেকে নেয়া টাকা তার পকেটে।

আরেক ভুক্তভোগী আশিক জানান, নাম সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তারা বলে উপজেলা পরিষদ থেকে করে আনতে। ভোটে নিবার্চিত হওয়ার পর জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িশ্চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিক বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারটি আমার জানা নেই। এছাড়া আমি আমার ইউনিয়নের সবাইকে বলে দিয়েছি রশিদ ছাড়া কাউকে যেন কোনো টাকা না দেন। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন সংক্রান্ত সব ধরনের লেনদেন ইউনিয়নের সচিব মঈনুল ইসলাম ছাড়া অন্য কারো সাথে করার সুযোগ নেই এবং করাও যাবে না। এর পরও যদি পরিষদের কোন সদস্য বা কর্মচারী অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ থাকে তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবো।

ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. মঈনুল বলেন, আমরা সাল সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা আর নাম সংশোধনের জন্য ৫০ টাকা ছাড়া বাড়তি এক টাকাও নিই নাই। কেউ যদি কোনো প্রতিনিধি বা কর্মচারীকে কাজ করে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকে তার দায়ভার আমাদের না । তবে যাদের কাছে হাতে লিখা সনদ নেই তাদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এটা কর্মচারীরা বুঝিয়ে বলতে না পারার কারণে ঝামেলা সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের চেয়ারম্যান স্যারও কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন যেন কোনো সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা না হয়।

এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, নাম ও জন্মসাল সংশোধনের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। ইউনিয়নের কম্পিউটার অপারেটর দিয়ে কাজটি করালে সেক্ষেত্রে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা খরচ হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত ফি নেওয়ার ব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ থাকলে এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এখন মাত্র ১৫ মিনিটেই জন্ম ও মৃত্যু সনদ সংশোধন করা যাবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে আমাদের উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু সনদ সংশোধন করা যাবে।

এসএম

Advertisement

CTG NEWS