একযুগ ধরে স্টাফের স্বাক্ষর দিয়ে চলছে মির্জাপুর ইউপি!

252
  |  বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ |  ৬:০৯ অপরাহ্ণ
       

মো. আবু শাহেদ, হাটহাজারী: দীর্ঘ এক যুগ ধরে ক্যাজুয়াল স্টাফের স্বাক্ষর দিয়ে জন্ম-মৃত্যু সনদ দিয়ে আসছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ।নেই কোন নিয়োগপত্র। কোন এক চেয়ারম্যানের নির্দেশে কাজ করেন তিনি। একে একে চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলেও তিনি থেকে যান বহাল তবিয়তে। সচিবের সাথে সখ্যতায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সচিবও নিজের প্রায় কাজের দায়িত্ব দিয়ে বসেছেন তাকে।আর এ সুযোগে জন্ম ও মৃত্যু সনদে সচিবের সিল ব্যবহার করে স্বাক্ষর দিয়ে জন্মসনদ প্রস্তুতকারী হিসেবে কাজ করছেন ওই ক্যাজুয়াল স্টাফ।নিয়মবহির্ভূত হলেও চেয়ারম্যান এবং সচিব তাকে সমর্থন দিয়ে কখনও স্বাক্ষর আবার কখনও সত্যায়িত করে যাচ্ছেন।

Advertisement

বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে। ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন নামে এক ব্যক্তি ভুল তথ্য দিয়ে একাধিকবার জন্ম সনদ নেয়।সেখানে সনদে সচিব কানু কুমার নাথের স্বাক্ষরের স্থলে ক্যাজুয়াল স্টাফ (বহিরাগত) মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনের স্বাক্ষর। আর সে স্বাক্ষরেই জন্ম সনদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গাজী মো. আলী হাসানের স্বাক্ষর। জন্ম ও মৃত্যু সনদ যাচাইপূর্বক স্বাক্ষরের নিয়ম থাকলেও তা করেনি সচিব ও চেয়ারম্যান।

গতকাল হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে গেলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, মির্জাপুর ইউনিয়নের সচিব দীর্ঘ ১২বছর যাবৎ কোন জন্ম ও মৃত্যু সনদে স্বাক্ষরই করেন না। তার স্থলে স্বাক্ষর করেন বহিরাগত বেলাল নামের এক ব্যক্তি। এভাবে কাউকে নিয়োগ দেয়ার নিয়ম নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ অনুযায়ী সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতীত ইউনিয়ন পরিষদে অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন না। তাকে (বেলাল উদ্দীন) পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কানু কুমার নাথ বলেন, বেলাল উদ্দিন আমাদের ক্যাজুয়াল স্টাফ। আমি বিভিন্ন সময় কাজ কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বেলালকে দিয়ে জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রস্তুত করিয়ে থাকি। এভাবে চলছে দীর্ঘ এক যুগ। কারো কোন অভিযোগ ছিল না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আসলে তিনি আমাকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।

নিজে সচিব হয়ে কেন ক্যাজুয়াল স্টাফকে দিয়ে জন্ম-মৃত্যু সনদে সাক্ষর করান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজের ব্যস্ততার কারণে আমার সাক্ষর করা সম্ভব না হওয়ায় তাকে দিয়ে  কাজ চালাতে হয়েছে।

এসইউ

Advertisement